কড়া রোদ আর তীব্র গরমে জনজীবন নাজেহাল। বিশেষ করে জীবিকার তাগিদে যাদের প্রতিদিন দীর্ঘ সময় রোদের মধ্যে বাইরে কাটাতে হচ্ছে, তাদের ভোগান্তি চরমে। এই তীব্র গরমে হিট স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ এবং পেটের নানা রকম সমস্যার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখা এবং পানির ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
ভারতীয় গণমাধ্যম ‘নিউজ১৮’-এর একটি প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কড়া রোদ থেকে ঘরে ফিরে এবং সকালে বাইরে যাওয়ার আগে সুস্থ থাকতে কিছু বিশেষ খাবারের পরামর্শ দিয়েছেন।
১. পর্যাপ্ত পানীয় ও ডাবের পানি
ভারতীয় পুষ্টিবিদ গোপা নাগ দে-র মতে, এই তীব্র গরমে সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি হলো পর্যাপ্ত পানীয় গ্রহণ। তিনি সকালে বাইরে বের হওয়ার অন্তত ১৫-২০ মিনিট আগে ১ থেকে ২ গ্লাস পানি পান করার পরামর্শ দেন। এছাড়া রোদ থেকে ঘরে ফিরে কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিয়ে এক গ্লাস ডাবের পানি পান করতে পারেন। প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইটের সেরা উৎস হওয়ায় ডাবের পানি শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে বেরিয়ে যাওয়া খনিজ লবণের ঘাটতি দ্রুত পূরণ করে।
২. লেবু পানি কিংবা টক দইয়ের ঘোল
বাইরে যাওয়ার আগে সামান্য লবণ ও চিনি দিয়ে এক গ্লাস লেবুর শরবত অথবা ঠান্ডা টক দইয়ের ঘোল খেয়ে বের হতে পারেন। এই পানীয়গুলো পাকস্থলী শান্ত রাখে এবং শরীরকে ভেতর থেকে দীর্ঘক্ষণ ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
৩. বেল বা কাঁচা আমের শরবত
গরমের দিনে সানস্ট্রোক বা হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ করতে বেলের শরবত কিংবা আমপোড়ার (কাঁচা আম) শরবত দারুণ কার্যকরী। রোদ থেকে ফিরে এই শরবতগুলো পান করলে তা শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায় এবং ক্লান্তি দূর করে।
৪. পাকা পেঁপে বা কলা
কড়া রোদ থেকে ঘরে ফিরে ফল হিসেবে পাকা পেঁপে বা কলা খেতে পারেন। কলায় প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। গরমে অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর যে পটাশিয়াম হারায়, কলা তা দ্রুত পূরণ করে পেশির টান লাগা বা দুর্বলতা দূর করে।
৫. পানিযুক্ত ফল (তরমুজ ও শশা)
তীব্র গরমে শরীরকে হাইড্রেটেড বা সতেজ রাখতে তরমুজ ও শশার জুড়ি নেই। এগুলোতে ৯০ শতাংশের বেশি পানি থাকে। বাইরে বের হওয়ার আগে কয়েক টুকরো তরমুজ বা শশা খেয়ে নিলে শরীর দীর্ঘক্ষণ ডিহাইড্রেশনের হাত থেকে রক্ষা পায়।
৬. সকালের খাবারে পান্তা ভাত
গরমের দিনে সকালের নাস্তায় পান্তা ভাত খাওয়ার অভ্যাস শরীর ঠান্ডা রাখার একটি দারুণ ঐতিহ্যবাহী ও বৈজ্ঞানিক উপায়। এছাড়া দিনের অন্য সময়ে ভারী কিছু খেতে হলে অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার সম্পূর্ণ বর্জন করে একদম হালকা ঘরোয়া খাবার বেছে নেওয়া উচিত।
তীব্র গরমে যা এড়িয়ে চলবেন:
অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কোল্ড ড্রিংকস বা প্যাকেটজাত জুস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এগুলো সাময়িক তৃষ্ণা মেটালেও শরীরের ভেতরের পানির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়।
গরমে অতিরিক্ত চা বা কফি খাওয়া একদমই উচিত নয়। কারণ ক্যাফেইন শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য (ডিহাইড্রেটেড) করে তোলে।