
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত ও যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর, ইরানের ওপর থেকে বিতর্কিত নৌ অবরোধ তুলে নিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (টুইটার) রাষ্ট্রপতির নির্দেশনায় অবরোধ প্রত্যাহারের এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে এই চুক্তি নিয়ে এবারই প্রথম মুখ খুলে নিজের ‘ভিন্ন মত’ প্রকাশ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
চুক্তি নিয়ে খামেনির বিস্ফোরক মন্তব্য: গত মার্চে বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দায়িত্ব নেওয়া মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে জানান, শুরুতে তিনি এই চুক্তির পক্ষে ছিলেন না। তবে দেশের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের আশ্বাসের পর তিনি সম্মতি দেন। খামেনির দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটি বাস্তবায়নের জন্য ‘মরিয়া হয়ে সব ধরনের প্রভাব খাটিয়েছেন’। ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের সাথে সরাসরি আলোচনার ইঙ্গিত দিলেও তিনি স্পষ্ট করেন, “এর অর্থ এই নয় যে আমরা শত্রুর অবস্থান মেনে নিচ্ছি।”
কঠোর শর্তে মার্কিন অবস্থান: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “চুক্তির শর্ত পুরোপুরি পূরণ না করা পর্যন্ত ইরান কোনো অর্থ পাবে না বা নিষেধাজ্ঞা থেকেও ছাড় পাবে না।” সমঝোতা স্মারক (MoU) অনুযায়ী, ইরানকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা নিয়ম মেনে চলছে। তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করতে হবে এবং ওই অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে।
চুক্তির মূল ১৪ দফা ও ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল: মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ফেরানোর এই চুক্তিটি ১৪টি মূল বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এর মধ্যে রয়েছে—সব ফ্রন্টে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া এবং ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বৈশ্বিক তহবিল গঠন (যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আর্থিক বাধ্যবাধকতা নেই)। পরবর্তী ৬০ দিন এই চুক্তির কারিগরি বিষয় নিয়ে সুইজারল্যান্ডে আলোচনা চলবে।
নেতানিয়াহুর সুর নরম, মন্ত্রিসভাকে ভ্যান্সের ধমক:
এদিকে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার উগ্রপন্থী সদস্যরা এই চুক্তির তীব্র সমালোচনা করায় চটেছেন জেডি ভ্যান্স। নিউইয়র্ক টাইমসে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ইসরায়েলের মন্ত্রীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনাদের আসল প্রস্তাবটা কী? আপনারা মাত্র ৯০ লাখ মানুষের একটি দেশ। জাতীয় নিরাপত্তার সব সমস্যা শুধু মানুষ মেরেই সমাধান করা যায় না।” মার্কিন চাপের মুখে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সুর নরম করে ওয়াশিংটনের সাথে ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ চলার ওপর জোর দিয়েছেন।
তবে এই চুক্তির পরও মাঠপর্যায়ের চিত্র এখনো থমথমে। ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এই চুক্তির শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং বৃহস্পতিবারও লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ৩ জন নিহত হয়েছেন।
তথ্যসূত্রঃ বিবিসি