চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের পরও গভীর রাতে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার জামবাড়ীয়া ইউনিয়নের আদমপুর এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি ভোলাহাট উপজেলার নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোবাইল কোর্টের অভিযানে গিয়ে মাটি কাটার স্থানে ব্যবহৃত ড্রেজারের ব্যাটারিসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ জব্দ করেন। কিন্তু প্রশাসনের ওই অভিযানের পরও অভিযুক্ত চক্রটি পুনরায় একই স্থানে রাতের আঁধারে নতুন করে ড্রেজার বসিয়ে দেদারসে মাটি কাটা শুরু করেছে।
ভরাটের নামে ইটভাটায় মাটি বিক্রি
অভিযোগ রয়েছে, জামবাড়ীয়া ইউনিয়নের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। স্থানীয়দের কাছে খাল ও নিম্নাঞ্চল ভরাটের কথা বলা হলেও, বাস্তবে এই কাটা মাটি গভীর রাতে ট্রাক্টর ও ট্রলির মাধ্যমে বিভিন্ন ইটভাটায় চড়া দামে সরবরাহ করা হচ্ছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কৃষিজমি ও পরিবেশের ক্ষতি করে অবাধে মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবুও আইন ও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাটি কাটা চলতে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, এভাবে কৃষিজমির টপসয়েল (ওপরের উর্বর অংশ) অপসারণ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জমির উর্বরতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে।
জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ ইউসুফ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মাটি কাটার বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন। তবে বিস্তারিত বিষয়ে পরে কথা বলবেন জানিয়ে দ্রুত ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
এদিকে ৪নং জামবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আফাজ উদ্দিন পানু মিয়া বলেন,
“গভীর রাতে মাটি কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো, ইনশাআল্লাহ।”
স্থানীয়দের দাবি, চোর-পুলিশ খেলার মতো প্রশাসনের সাময়িক অভিযান নয়, বরং নিয়মিত নজরদারি ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ (যেমন জেল ও বড় অঙ্কের জরিমানা) ছাড়া এই অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করা সম্ভব নয়।