দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় ডোবার পানিতে ডুবে সাজ্জাদ হোসেন মারুফ (১৪) নামে এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে উপজেলার ১ নম্বর বুলাকিপুর ইউনিয়নের বরাতিপুর গ্রামে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মারুফ বরাতিপুর গ্রামের মুদি দোকানদার মিজানুর রহমানের ছেলে। সে স্থানীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের তালিকাভুক্ত একজন প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী ছিল।
দুর্ঘটনার বিবরণ:
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার বাড়ির পেছনে কিছু চারাগাছ রোপণ করেছিলেন মারুফের বাবা। বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সবার অজান্তে একটি বদনা নিয়ে বাড়ির পাশের ডোবা থেকে পানি তুলে ওই চারাগাছে দেওয়ার জন্য যায় মারুফ। পানি নিয়ে ফেরার সময় অসাবধানতাবশত পা পিছলে সে গভীর ডোবার পানিতে পড়ে যায়। বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় সে কাউকে ডেকে সাহায্যও চাইতে পারেনি।
দীর্ঘক্ষণ তাকে বাড়ির কোথাও খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে ডোবার পানিতে তাকে উপুড় হয়ে ভাসতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসক পরীক্ষা করে মারুফকে মৃত ঘোষণা করেন। কিশোর ছেলের এমন আকস্মিক ও করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আইনি পদক্ষেপ ও পুলিশের বক্তব্য:
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মিজানুর রহমান ঘোড়াঘাট থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) সংক্রান্ত লিখিত আবেদন করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ একটি দুর্ঘটনা এবং এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে তাদের কোনো অভিযোগ নেই।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “বরাতিপুর গ্রামে ডোবার পানিতে ডুবে এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, চারাগাছে পানি দিতে গিয়ে পা পিছলে ডোবায় পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।”