বাংলা নাটক ও চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ সমু চৌধুরী। একসময় অভিনয় দিয়ে দর্শকের মন জয় করেছেন, পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন নানা চরিত্র। সেই অভিনেতাই আজ জীবনের নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
সম্প্রতি যশোরে নিজ বাড়ির সামনে হামলার শিকার হয়ে আবারও আলোচনায় এসেছেন তিনি। এ ঘটনায় তাঁর মাথায় চারটি সেলাই দিতে হয়েছে।
সমু চৌধুরীর জন্ম ১৯৬৪ সালের ৮ জুন যশোরে। তাঁর বাবা প্রয়াত আবুল কাশেম চৌধুরী। যশোরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে অভিনয়ের হাতেখড়ি হয় তাঁর। দীর্ঘ ১২ বছর যুক্ত ছিলেন যশোর উদীচীর সঙ্গে। পরে ঢাকায় এসে যোগ দেন নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে।
১৯৯০ সালে প্রয়াত আতিকুল হক চৌধুরীর পরিচালনায় ‘সমৃদ্ধ অসীম’ নাটকের মাধ্যমে পেশাদার অভিনয় শুরু করেন তিনি। একই বছরের ২২ মার্চ বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত নাটকটিতে ‘গালিব’ চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পান।
এরপর ‘সোনালী রোদ্দুরে’, ‘রং ছিটা’, ‘সবুজের হলুদ ব্যাধি’ ও ‘কালো জোছনা’র মতো নাটক এবং ‘উথান’ ধারাবাহিকসহ বিভিন্ন প্রযোজনায় অভিনয় করেন তিনি।
চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন সমু চৌধুরী। শামসুল আলমের ‘শত জনমের প্রেম’ ছবিতে প্রথম অভিনয় করলেও মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ছবি ছিল আমজাদ হোসেনের ‘আদরের সন্তান’।
পরবর্তী সময়ে ‘মায়ের অধিকার’, ‘দোলন চাঁপা’, ‘জুম্মন কসাই’, ‘দেশ দরদী’, ‘প্রেমের নাম বেদনা’, ‘মরণ নিয়ে খেলা’, ‘যাবি কই’, ‘সুন্দরী বধূ’ ও ‘হৃদয় থেকে পাওয়া’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
তানভীর মোকাম্মেলের ‘নদীর নাম মধুমতী’ ছবিতেও অভিনয় করেছেন এই শিল্পী। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্র, দুই মাধ্যমেই নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি।
অভিনয়জীবনে দীর্ঘ সময় কাজ করার পর পারিবারিক কারণে প্রায় ছয় বছর বিরতিতে ছিলেন বলে জানা যায়। পরে আবার অভিনয়ে ফেরেন। যশোরের বেজপাড়া নলডাঙ্গা রোডের বাড়ির সঙ্গে তাঁর জীবনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের।
তবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, বর্তমান আর্থিক অবস্থা কিংবা পারিবারিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা থাকলেও এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতিবেদন প্রকাশ করা জরুরি।
গত ১৩ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার দুপুরে যশোর শহরের বেজপাড়া নলডাঙ্গা রোডের নতুন বাজার এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে হামলার শিকার হন সমু চৌধুরী।
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, বাড়ির সামনের একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজের কর্মচারীদের সঙ্গে ময়লা-আবর্জনা ফেলা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁকে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে তাঁর মাথা ফেটে যায়।
পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা শেষে তাঁর মাথায় চারটি সেলাই দেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনি বাড়িতে ফিরে যান।
এ ঘটনায় সমু চৌধুরী বাদী হয়ে দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরদিন, ১৪ অক্টোবর, মামলার এক আসামি জাহাঙ্গীর হোসেনকে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপর আসামি হৃদয় হোসেনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছিল বলে সে সময় পুলিশ জানায়।
একজন শিল্পীর পরিচয় শুধু তাঁর পর্দার উপস্থিতিতে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিনের অভিনয়, অসংখ্য চরিত্র এবং দর্শকের সঙ্গে তৈরি হওয়া সম্পর্কই তাঁর পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সমু চৌধুরীর অভিনয়জীবনের উত্থান, বিরতি, প্রত্যাবর্তন এবং সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা আবারও সামনে এনেছে শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবনের নিরাপত্তার প্রশ্ন।
একজন শিল্পী যেন নিরাপদ পরিবেশে জীবনযাপন ও কাজ করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা সমাজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
পর্দায় নানা চরিত্রে অভিনয় করা সমু চৌধুরীর বাস্তব জীবনের এই কঠিন সময়ে তাঁর সুস্থতা ও নিরাপত্তা কামনা করছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা।