ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার পার্শ্ববর্তী উপজেলা গৌরীপুরের সুতিয়াখালিতে গড়ে উঠেছে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সারি সারি সৌর প্যানেল নিয়ে গড়ে ওঠা কেন্দ্রটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তির এক দৃষ্টিনন্দন সমন্বয়।
দূর থেকে তাকালেই বিশাল এলাকাজুড়ে স্থাপিত অসংখ্য সৌর প্যানেল চোখে পড়ে। দিনের আলোয় সূর্যের রশ্মি প্যানেলের ওপর পড়লে সৌরশক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
প্রচলিত জ্বালানির পাশাপাশি সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে দেশের জ্বালানি খাতে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব হওয়ায় সৌরবিদ্যুৎকে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ঈশ্বরগঞ্জের কাছাকাছি হওয়ায় সুতিয়াখালি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি এ অঞ্চলের মানুষের কাছেও পরিচিত। প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই ব্যবস্থা দেখতে স্থানীয়দের মধ্যেও আগ্রহ দেখা যায়।
বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। সৌরবিদ্যুৎ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ থাকায় ভবিষ্যতের টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থায় সৌরশক্তির গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
বাংলাদেশেও বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে ওঠার ধারাবাহিকতায় গৌরীপুরের সুতিয়াখালির এ কেন্দ্রও এ অঞ্চলে সৌরশক্তির ব্যবহার ও সম্ভাবনাকে দৃশ্যমান করেছে।
ঈশ্বরগঞ্জের পার্শ্ববর্তী গৌরীপুরে অবস্থিত এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের অবকাঠামো নয়, বরং প্রকৃতি, প্রযুক্তি ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি আধুনিক স্থাপনা। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে এ ধরনের প্রকল্প দেশের টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে।