রাজশাহী শহর থেকে বেশ কিছুটা দূরে বিনোদপুর এলাকা। সেখানেই স্ত্রী ও একমাত্র পুত্রসন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন ৫৮ বছর বয়সী বৃদ্ধ মজিদ। নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর সংসারে এই বাবা-মায়ের এখন একটাই বড় আশা— সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করা। অভাবের তাড়নায় নিজেরা শিক্ষার আলো না পেলেও, সন্তান যেন একদিন লেখাপড়া শিখে বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে, সেই অসাধারণ স্বপ্নের কথাই উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে।
প্রতিদিন সকাল হলেই অন্যের একটি ভাড়ায় চালিত রিকশা নিয়ে মজিদ নেমে পড়েন রাজশাহী শহরের চেনা-অচেনা রাস্তায়। তীব্র রোদ, প্রচণ্ড গরম আর বয়সের ক্লান্তি উপেক্ষা করে চলে তার জীবনযুদ্ধ। নিজের রিকশা না থাকায় প্রতিদিন রিকশামালিককে জমা দিতে হয় ৪৫০ টাকা। এরপর যা অবশিষ্ট থাকে, সেটাই মজিদের প্রকৃত উপার্জন। এই সামান্য অর্থ দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালিয়ে নেন তার স্ত্রী। নুন-ভাতের এই সংসারে কোনোদিন ভালো কোনো খাবার কেনার সামর্থ্য হয়ে ওঠেনি মজিদের, তার ওপর আবার রয়েছে সন্তানের পড়াশোনার খরচ, বই-খাতা কেনার তাগিদ।
এত কিছুর পরও নিজের মনের জোর বা আত্মবিশ্বাস বিন্দুমাত্র হারাননি মজিদ। তার সেই কষ্ট আজ সার্থকতার রূপ নিতে যাচ্ছে; তার একমাত্র সন্তান এখন চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। সন্তানের এই সাফল্যে বাবার চোখে এখন আনন্দের অশ্রু।
মজিদ আক্ষেপ করে জানান, এই দীর্ঘ লড়াইয়ে কোনোদিন কোনো আত্মীয়-স্বজন কিংবা পাড়া-প্রতিবেশী তাকে একটুও আর্থিক সাহায্য করেনি। সমাজ পাশে না দাঁড়ালেও মজিদের স্বপ্ন থেমে থাকেনি। একদিন তার সন্তান অনেক বড় সরকারি অফিসার হবে, দূর হবে পরিবারের সমস্ত অভাব-অনটন, দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে— কেবল এই বুকভরা আশা নিয়েই প্রতিদিন প্যাডেল চেপে রিকশা চালিয়ে যাচ্ছেন স্বপ্নজয়ী বাবা মজিদ।