হিসাববিজ্ঞানের ছাত্রী হয়েও বেছে নিয়েছিলেন রঙ আর সৃজনশীলতার দুনিয়া। ২০১১ সালে শুরু হওয়া সেই ছোট্ট স্বপ্ন আজ ডালপালা মেলে ছড়িয়ে পড়েছে বিয়ের সাজসজ্জা থেকে শুরু করে খাদ্য, শিক্ষা ও পর্যটন সেবায়। অদম্য সাহস আর অসামান্য দূরদর্শিতা নিয়ে আজ দেশের সফল বহুমাত্রিক নারী উদ্যোক্তাদের কাতারে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন রাজিয়া হক কনক।
উৎসবপ্রিয় বাঙালির জীবনের অন্যতম বড় উৎসব বিয়েকে আরও নান্দনিক ও আধুনিক রূপ দিতে রাজিয়া গড়ে তোলেন তার প্রধান প্রতিষ্ঠান ‘এলিগ্যান্ট ইভেন্ট সলিউশনস’। গায়েহলুদের চিরায়ত লোকজ সাজ থেকে শুরু করে রিসেপশনের আভিজাত্যময় আলোকসজ্জা—সবখানেই আধুনিকতার ছোঁয়া দিয়ে নজর কেড়েছেন তিনি। সেনা মালঞ্চ, আর্মি গলফ গার্ডেন, বিজিবি ব্যানকুইট হল ও বিএএফ শাহীন হলের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রিমিয়াম ভেন্যুগুলোতে হাজারো বর-কনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে তার এই প্রতিষ্ঠান।
ওয়েডিং ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন ‘বেস্ট এন্টারপ্রেনার’ ও ‘বেস্ট ইন ইনোভেশন’ সম্মাননা। পাশাপাশি দেশের এই খাতকে পেশাদার রূপ দিতে তিনি ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ওয়েডিং ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট বাংলাদেশ’-এর সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শুধু ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টে থেমে না থেকে নিজের দক্ষতাকে তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন বৈচিত্র্যময় বিভিন্ন খাতে। বেকিংয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকে গড়ে তুলেছেন জনপ্রিয় অনলাইন বেকারি ব্র্যান্ড ‘ব্লিসফুল বাইটস’। আন্তর্জাতিক এডুকেশন কনসালট্যান্সি ‘এমএমএস গ্লোবাল সার্ভিসেস’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করছেন। এছাড়া হজ ও ওমরাহযাত্রীদের সেবায় ব্যবস্থাপনা অংশীদার হিসেবে যুক্ত আছেন ‘যাদ আল হারামাইন’-এর সাথে।
নিজের পথচলা নিয়ে রাজিয়া হক কনক বলেন, “উদ্যোক্তা হওয়া মানে কেবল লাভের হিসাব নয়; এর প্রকৃত অর্থ নতুন কিছু তৈরি করা, সমাজে মূল্য যোগ করা এবং আস্থার প্রতীক হয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া।” সততা, সৃজনশীলতা আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে যে যেকোনো স্বপ্নকেই বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব, রাজিয়া হক কনকের জয়গাথা যেন তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।