রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) পাঁচটি থানার পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ জন মাদক ব্যবসায়ী ও ১ জন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযানে ১৫৫ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ১২ বোতল অ্যালকোহল উদ্ধার এবং মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজশাহী মহানগর পুলিশের মতিহার, কর্ণহার, শাহমখদুম, পবা ও বোয়ালিয়া থানা পুলিশ এসব অভিযান পরিচালনা করে। এর মধ্যে একটি অভিযান চালানো হয় ১৮ অক্টোবর রাতে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৯ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে মতিহার থানা পুলিশ মিজানের মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মির্জাপুর গ্রামের মো. আবদুল খালেকের ছেলে মো. শিপন (২৫)-কে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার হেফাজত থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ১৩০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, ১৮ অক্টোবর রাত সোয়া ১১টার দিকে কর্ণহার থানা পুলিশ ডাঙ্গেরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাহমখদুম থানার বড়বাড়িয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত বসির আলীর ছেলে মো. রহিম উদ্দিন (৩৯)-কে গ্রেপ্তার করে।
এ সময় তার কাছ থেকে ১৫ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রহিমের বিরুদ্ধে শাহমখদুম থানায় ৯টি ও কাশিয়াডাঙ্গা থানায় ১টিসহ মোট ১০টি মাদক মামলা রয়েছে।
এ ছাড়া ১৯ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শাহমখদুম থানা পুলিশ বড়বনগ্রাম শেখপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একই গ্রামের মো. আলম সরকারের ছেলে মো. শরিফুল ইসলাম বিপ্লব (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করে।
এ সময় তার কাছ থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ১০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিপ্লবের বিরুদ্ধে আরএমপির বিভিন্ন থানায় দণ্ডবিধি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং অস্ত্র আইনে মোট চারটি মামলা রয়েছে।
একই দিন দুপুর পৌনে ৩টার দিকে পবা থানা পুলিশ হাট রামচন্দ্রপুর গ্রামের মো. আবদুল মান্নানের ছেলে মো. বাবলু ওরফে বাবলু আলীর (৪৪) বসতবাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় বাড়িতে তল্লাশি করে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ১২ বোতল অ্যালকোহল উদ্ধার করা হয় এবং বাবলুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে, দুপুর ১টার দিকে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ পঞ্চবটি খরবোনা নদীর বাঁধ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মীরেরচক গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে মো. নাঈম (৩৫)-কে মাদক সেবনরত অবস্থায় গ্রেপ্তার করে।
পরে রাজশাহী বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকের মতামতের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।