দিনাজপুরের পার্বতীপুরে চিকিৎসা ব্যয়ের বিল পরিশোধ করতে না পারায় সদ্য সন্তান হারানো এক প্রসূতি মাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র না দিয়ে আটকে রাখার অমানবিক অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে সমস্যার সমাধান হয় এবং ওই প্রসূতি বাড়ি ফেরার সুযোগ পান।
গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই, ২০২৬) সন্ধ্যায় উপজেলার ল্যাম্ব হাসপাতালে এই বেদনাদায়ক ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী ওই প্রসূতি নারী উপজেলার বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের সোনাপুকুর (মাঝাপাড়া) গ্রামের এক দরিদ্র ভ্যানচালকের স্ত্রী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার ৬ দিন বয়সী অসুস্থ নবজাতককে নিয়ে ল্যাম্ব হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ওই প্রসূতি। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার সকালে শিশুটি মারা যায়। স্বজনদের অভিযোগ, শিশুটির মৃত্যুর পর হাসপাতালের মোটা অঙ্কের বিল পরিশোধ করতে না পারায় প্রসূতি মাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র (ডিসচার্জ) দেওয়া হয়নি। এর ফলে একদিকে সন্তান হারানোর শোক, অন্যদিকে হাসপাতালের বিলের চাপ—দুটি মিলে ওই পরিবার চরম অসহায়ত্বে পড়ে। এমনকি জন্মদাত্রী মায়ের অনুপস্থিতিতেই গ্রামের বাড়িতে নবজাতকের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করতে বাধ্য হয় পরিবারটি। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা দ্রুত বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আনেন। খবর পেয়ে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন। উপজেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিল থেকে ওই পরিবারের চিকিৎসা ব্যয়ের অর্থ পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলে অবশেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রসূতি মাকে ছাড়পত্র দেয় এবং তিনি স্বজনদের সাথে বাড়ি ফিরে যান।
এ বিষয়ে ইউএনও সাদ্দাম হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের জন্য বিশেষ ছাড় বা বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ রাখা উচিত। এমন চরম সংকটের মুহূর্তে একজন সন্তানহারা অসহায় মাকে বিলের কারণে আটকে রাখা কোনোভাবেই মানবিকতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”
তবে আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করে ল্যাম্ব হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাইমন বলেন, “রোগীকে আটকে রাখা হয়নি। চিকিৎসা বিল পরিশোধের বিষয়ে আমাদের মাঝে আলোচনা চলছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস পাওয়ার পরপরই রোগীর মাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।” যদিও রোগীর স্বজনদের দাবি—বিল পরিশোধের লিখিত বা মৌখিক নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত প্রসূতি মাকে হাসপাতাল ত্যাগ করতে দেওয়া হয়নি।
সংকটময় মুহূর্তে অসহায় রোগীদের প্রতি হাসপাতালের আরও সহানুভূতিশীল আচরণ এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের তাৎক্ষণিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।