সিলেটের ওসমানীনগরে ভূমি বিরোধের জেরে হামলা, ভাঙচুর, প্রাণনাশের হুমকি ও মানহানিকর অপপ্রচারের অভিযোগ করেছেন সাইদুর রহমান।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা দাবি করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের খুজগীপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন সাইদুর রহমান।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে উমরপুর বাজার মসজিদে এশার নামাজ শেষে বের হওয়ার পর একই গ্রামের মাজাহিদ আলী, আব্দুল শহিদ ও তাঁদের সহযোগীরা তাঁর ওপর হামলা চালান।
পরে প্রাণ বাঁচাতে রহমান রাইস মিলে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে ভাঙচুর করেন। এ সময় লোহার পাইপ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন বলে দাবি করেন।
তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে ভাতিজা হাসান মিয়া, চাচাতো ভাই আক্তার হোসেন ও প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক জালাল মিয়াও আহত হন। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নগদ টাকা, মুঠোফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি।
পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চার দিন চিকিৎসা নেন তিনি।
সাইদুর রহমানের দাবি, খুজগীপুর মৌজার জেল নং-০৯, খতিয়ান নং-৬৩৫-এর বিভিন্ন দাগে ১৩০ শতক ভূমি তাঁর দাদা ইউনুছ আলী ১৯৭০ সালে তিনটি দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর বাবা ও চাচাদের নামে ভূমিটি রেজিস্ট্রি ও নামজারি করা হয় এবং তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন।
তবে ভূমি ক্রয়ের ছয় বছর পর চাঁন মিয়া ও আব্দুল জলিল জাল দলিলের মাধ্যমে ওই জমির মালিকানা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ নিয়ে তাঁর চাচা সোনাওর আলী ১৯৭৬ সালে বালাগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন। পরে ২০১০ সালের ২৬ আগস্ট সিলেট বিশেষ জেলা জজ আদালত সোনাওর আলীর পক্ষে রায় দেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, চলতি বছরের জুলাইয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে সাইদুর রহমান সাইনবোর্ড স্থাপন করলে মাজাহিদ আলী, আব্দুল শহিদ ও তাঁদের সহযোগীরা সেটি ভাঙচুর করে নিয়ে যান। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেয় বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া তাঁর ছবির সঙ্গে অন্য এক নারীর ছবি যুক্ত করে জাল কাবিননামা ও সাজানো অভিযোগপত্র তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধির কাছে পাঠিয়ে মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন সাইদুর রহমান।
এ ঘটনায় গত মাসে সিলেটের প্যানেল কোর্টে মামলা করেছেন বলে জানান তিনি।
হামলার ঘটনায় ২৭ সেপ্টেম্বর ওসমানীনগর থানায় তাঁর ভাই আমিনুর রহমান বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
মামলার পর থেকে তাঁকে গুম ও হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছে দাবি করে সাইদুর রহমান বলেন, তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। এ অবস্থায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তাঁর ভাই আমিনুর রহমান, চাচাতো ভাই আক্তার হোসেন, স্থানীয় আঙ্গুর মিয়া, হাসান মিয়া, জাকির আহমদ ও জালাল মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।