বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের কোনো জায়গা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেছেন, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে কোনো অপশক্তিকে কখনোই সুযোগ দেওয়া হবে না।
রাজধানীর গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে সংঘটিত বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণে বুধবার (১ জুলাই) আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকায় ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর গুলশানের বাসভবনে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রত্যয়:
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “রাজনৈতিক, ধর্মীয়, আদর্শিক বা অন্য কোনো কারণেই সন্ত্রাসবাদকে কখনো ন্যায্যতা দেওয়া যায় না। উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সর্বক্ষেত্রে মোকাবিলায় বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ১০ বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু সেই রাতের ক্ষত এখনো আমাদের জাতীয় চেতনা থেকে মুছে যায়নি। ২০১৬ সালের ১ জুলাই সংঘটিত সেই মর্মান্তিক হামলা আমাদের জাতির ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায়।”
নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শামা ওবায়েদ আরও বলেন, “হামলাটি ছিল আশা, মানবতা এবং বিভিন্ন দেশের মানুষের অভিন্ন মূল্যবোধকে স্তব্ধ করে দেওয়ার অপচেষ্টা। এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির মুখেও বাংলাদেশ অসাধারণ সামাজিক সংহতি ও জাতীয় ঐক্যের দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছে।”
আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের শ্রদ্ধা নিবেদন:
স্মরণসভার শুরুতে ইতালি দূতাবাসের কনস্যুলার শাখার প্রধান লরা স্কেলা নিহতদের নাম পাঠ করেন। এরপর নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে কূটনৈতিক কোরের ডিন ও ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস. ওয়াই. রমাদান, ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত উপপ্রধান আলবার্ট সিয়া এবং বাংলাদেশ পুলিশের একজন প্রতিনিধি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো তাঁর বক্তব্যে বলেন, “নৃশংস ওই সন্ত্রাসবাদ বাংলাদেশে থাকা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর বড় রকমের প্রভাব ফেলেছিল। এই হামলা ২৪ জন নিরপরাধ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে, যারা বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন।” তিনি এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।
হোলি আর্টিজান ট্র্যাজেডির পটভূমি:
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে অস্ত্র ও গ্রেনেড নিয়ে ভয়াবহ হামলা চালায় ৫ জঙ্গি। প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী জিম্মি সংকটের সময় ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি, ১ জন ভারতীয় এবং ৩ জন বাংলাদেশিসহ ২০ জন জিম্মিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। জিম্মিদের উদ্ধারের শুরুতে জঙ্গিদের বোমা বিস্ফোরণে নিহত হন গোয়েন্দা পুলিশের এসি রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ওসি সালাহউদ্দিন খান। পরদিন ভোরে সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ অভিযানের মাধ্যমে ৫ হামলাকারী নিহত হয় এবং ১৩ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।