২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সেই উত্তাল ও ভয়াবহ দিনগুলোর স্মৃতিচারণা করেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী এবং সাবেক সাংবাদিক মোঃ আবু মুসলিম বিন হাই। তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ৩০ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে পুলিশি বেষ্টনী ও গোয়েন্দা সংস্থার হুমকির মুখেও ন্যায়ের পক্ষে তাঁদের অটল অবস্থানের কথা প্রকাশ করেছেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় মোঃ আবু মুসলিম বিন হাই বলেন,
“সেদিন পুলিশের বন্দুকের মুখে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম— আমাদের বুকে গুলি করেন! ঢাকা মেডিকেলের সামনে শত শত পুলিশ চারপাশ থেকে ঘেরাও করে রেখেছিল। কিন্তু আমরা বিন্দুমাত্র ভীত হইনি।”
স্মৃতিচারণায় তিনি জানান, তৎকালীন রমনা ডিভিশনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শীলা বেগম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) আখতার ও শাহবাগ থানার ওসিসহ পুলিশের বিশাল বহর তাঁদের ন্যায়ের দাবির আন্দোলনকে পণ্ড করতে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে বাধা দেয়। সেই সংকাটপন্ন মুহূর্তেও সীমা দিদি, ডাক্তার দলিল, রাখাল দাদা, পঙ্কজ নাথ সূর্য, রুপা আপা এবং ডাক্তার শামীমসহ আরও অনেকেই পাহাড়ের মতো অটল থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আন্দোলনের দিন মাঠ থেকে বাসায় ফেরার পরপরই গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁকে ফোন করে পেশাগত কাজে সীমাবদ্ধ থাকার এবং আন্দোলনের ঝামেলায় না জড়ানোর বার্তা দেওয়া হয়। এর জবাবে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছিলেন, “শাহাদাতের বাসনা নিয়ে মাঠে নেমেছি, ভয় দেখিয়ে লাভ নেই।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্ন পেশাজীবীদের এমন অসম সাহসী ভূমিকা পরবর্তীতে স্বৈরাচারী পতনে এবং বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশ গঠনে বড় ভূমিকা রেখেছিল।