মোংলা বন্দরের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পশুর চ্যানেলের নাব্যতা ধরে রাখতে ১৫৩৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন একটি সংরক্ষণ (ম্যান্টেন্যান্স) ড্রেজিং প্রকল্প শুরু হয়েছে। সম্প্রতি শেষ হওয়া ইনার বার ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে অর্জিত গভীরতা যেন পলি জমে পুনরায় ভরাট না হয়ে যায়, তা নিশ্চিত করাই এই মেগা প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পটি ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলমান থাকবে।
বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ড্রেজিংয়ের অভাবে অতীতে বড় জাহাজগুলোকে জেটিতে ভিড়তে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো, যা দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। নতুন এই প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হলে বন্দরের জেটিগুলোতে সাড়ে ৯ থেকে ১০ মিটার ড্রাফটের বাণিজ্যিক জাহাজ সরাসরি নোঙর করতে পারবে। ফলে লাইটারিং বা পণ্য খালাসের অতিরিক্ত খরচ ও সময় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নৌবাহিনীর কারিগরি দক্ষতা ও আধুনিক যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে চ্যানেলটি সচল রাখা হবে। পশুর চ্যানেলের তলদেশ সবসময়ই পলির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় নিয়মিত ড্রেজিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। তবে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং ২০২৯ সালের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করাটাই এখন বন্দর প্রশাসনের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ।