যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক সইয়ের পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মরিয়া’ মনোভাব ও কৌশল কাজ করেছে বলে দাবি করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনি। তবে একই সাথে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটনের কোনো অতিরিক্ত বা অযৌক্তিক দাবি তেহরান মেনে নেবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিশেষ বার্তায় তিনি চুক্তির বিষয়ে তাঁর এই অবস্থান ব্যক্ত করেন।
প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রদ্ধেয় ইরানি জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া বার্তায় খামেনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এই চুক্তির পর্যায়ে পৌঁছাতে ইরানি কর্মকর্তারা অত্যন্ত সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটি করতে মরিয়া হয়ে বিভিন্ন ধরনের চাপ ও কৌশল প্রয়োগ করেছেন।
চুক্তির মূল শর্তাবলি: এই সমঝোতা স্মারকে সব ক্ষেত্রে শত্রুতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার শর্তও এতে যুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া ইরানের জন্য ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি পুনর্গঠন পরিকল্পনা ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শুরুতে ভিন্নমত ছিল খামেনির: মোজতবা আলী খামেনি জানান, শুরুতে এই চুক্তির ব্যাপারে তাঁর নিজের ভিন্নমত ছিল। তবে দেশের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বিশেষ প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করেই তিনি শেষ পর্যন্ত এই চুক্তির অনুমতি দিয়েছেন। পেজেশকিয়ান তাঁকে কথা দিয়েছেন যে, তাঁরা যেকোনো পরিস্থিতিতে ইরানি জাতি ও প্রতিরোধের (রেজিস্ট্যান্স) অধিকার রক্ষা করবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অতিরিক্ত দাবি মেনে নেবেন না।
ভবিষ্যৎ আলোচনার বিষয়ে বার্তা:
সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘এই মুহূর্ত থেকে আমরা সবাই মিলে এসব শর্ত পূরণের জন্য অপেক্ষা করব। ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যে আলোচনা হবে, তার অর্থ এই নয় যে আমরা শত্রুর সব কথা মেনে নেব।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইমাম মাহদীর আশীর্বাদ ও প্রার্থনা ইরানি জাতির জন্য নতুন বিজয় বয়ে আনবে।