চামড়া শিল্প খাতের টেকসই উন্নয়ন ও চামড়া সংরক্ষণে শিল্প মালিকদের সব ধরনের সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রোববার (১৭ মে) রাজধানীর মতিঝিলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত চামড়া শিল্প খাতের উন্নয়নে সুপারিশ প্রণয়ন ও কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্যে গঠিত টাস্কফোর্সের ৯ম সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক মানের কমপ্লায়েন্সের তাগিদ:
শিল্পমন্ত্রী বলেন, চামড়া শিল্পকে একটি লাভজনক ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতাপূর্ণ খাতে রূপান্তর করতে হলে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের চামড়া শিল্পে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে এবং সরকার এ খাতকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কঠোর নজরদারি:
পরিবেশ সুরক্ষার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “পরিবেশ সুরক্ষায় সাভারে প্রতিষ্ঠিত ইটিপি যেন কোনোভাবেই বন্ধ না হয় বা অপব্যবহারের শিকার না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হবে। চামড়া শিল্পের কঠিন ও তরল বর্জ্য পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হওয়ায় এ বিষয়ে ট্যানারি মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।”
সুশৃঙ্খল সিস্টেমের আওতায় আসবে পুরো প্রক্রিয়া:
তিনি আরও জানান, পশু জবাইয়ের পর চামড়া ছাড়ানো, সংরক্ষণ থেকে শুরু করে চামড়া বাজারজাতকরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে একটি সুশৃঙ্খল বৈজ্ঞানিক সিস্টেমের আওতায় আনা হবে। এর ফলে চামড়ার গুণগত মান যেমন বজায় থাকবে, তেমনি চামড়া খাতকে দেশের একটি অন্যতম বড় বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎসে পরিণত করা সম্ভব হবে।
আর্থিক সহায়তা ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবি:
চামড়া খাতের ব্যবসায়ীদের আর্থিক সংকট দূর করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবসায়ীদের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। একই সাথে সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে (ট্যানারি পল্লী) উৎপাদন সচল রাখতে শতভাগ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন তিনি।
টাস্কফোর্সের ৯ম সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ট্যানারি মালিক অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এবং চামড়া খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।