খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার আটরা গিলাতলা ইউনিয়নে আকস্মিক বজ্রসহ বৃষ্টি, ঝড়ো হাওয়া ও ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তীব্রতায় ভৈরব নদের তীরবর্তী জনপদের প্রায় ৫০টি ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভেঙে গেছে। এছাড়া অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ার পাশাপাশি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ও তার ছিঁড়ে পুরো এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। এতে রাস্তার ওপর বিপজ্জনকভাবে তার ও খুঁটি পড়ে থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
গত বুধবার (৮ জুলাই, ২০২৬) রাতে ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যপাড়া (বড়বাড়ি), গাজীপাড়া ও শিরোমণি এলাকায় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে নদীর তীরবর্তী গিলাতলা মধ্যপাড়া এবং গাজীপাড়া এলাকার অসংখ্য বসতবাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে। অনেক কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ির দেয়াল ধসে সম্পূর্ণ বা আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ের আঘাতে উপড়ে পড়া বড় ও মাঝারি গাছপালা রাস্তার ওপর ভেঙে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের। বেশ কয়েকটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ও মচকে রাস্তার ওপর বিপজ্জনকভাবে ঝুলে রয়েছে, যার ফলে প্রধান লাইনের তার ছিঁড়ে গেছে। আকস্মিক এই দুর্যোগে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে অনেক পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় থমকে গেছে খেটে খাওয়া মানুষের উপার্জনের পথ।
এমন পরিস্থিতিতে গৃহহীন ও ক্ষতিগ্রস্ত অর্ধশত পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি অতি দ্রুত সংস্কারের জন্য জরুরি সরকারি অনুদান, টিন ও ত্রাণ বিতরণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সাথে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ করে নতুন খুঁটি স্থাপন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এদিকে খবর পেয়ে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শনে যান স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাফেজ গোলাম মোস্তফা। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি সরকারি সহায়তা প্রাপ্তির বিষয়ে ভুক্তভোগীদের সর্বাত্মক আশ্বস্ত করেন।