গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা জুড়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম বিদ্যুৎ বিভ্রাট, লো-ভোল্টেজ এবং লাগাতার তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ না থাকায় পুরো উপজেলা জুড়ে এখন চরম গণঅসন্তোষ ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ— সেবার নামে এখানে চলছে চরম উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনার নগ্ন প্রদর্শনী।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কালীগঞ্জে বিদ্যুৎ যেন এখন এক অনিশ্চিত অতিথি। কখন আসবে আর কখন যাবে, তার কোনো হদিস নেই। তীব্র গরমে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পড়ার টেবিল ছেড়ে হাঁসফাঁস করছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে কলকারখানা ও ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে ব্যাহত হচ্ছে জরুরি চিকিৎসাসেবা। শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা এই অসহনীয় গরমে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
বিল আদায়ে কঠোরতা, সেবায় উদাসীনতা:
গ্রাহকদের সবচেয়ে বড় ক্ষোভের জায়গা হলো বিদ্যুৎ বিভাগের বৈষম্যমূলক নীতি। স্থানীয়দের দাবি, ২৪ ঘণ্টার সিংহভাগ সময় অন্ধকারে রাখলেও মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল পাঠাতে বা তা আদায়ে কর্তৃপক্ষের কোনো উদাসীনতা থাকে না। বিল আদায়ে শতভাগ কঠোরতা প্রদর্শন করা হলেও, নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে চরম অবহেলা ও উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। পরিশোধ করা অর্থের বিনিময়ে ন্যায্য সেবা না পেয়ে জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দানা বাঁধছে।
কর্তৃপক্ষের জবাবদিহির দাবি:
এই অব্যাহত দুর্ভোগের দায় কার— তা নিয়ে এখন প্রশ্ন তুলছেন কালীগঞ্জবাসী। সাধারণ মানুষের দাবি, সমস্যার কথা জানিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও মিলছে না কোনো স্থায়ী সমাধান। একে অন্যকে দোষারোপ বা দায় এড়ানোর রাজনীতি বন্ধ করে দ্রুত বাস্তবসম্মত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কালীগঞ্জের সর্বস্তরের জনগণের একটাই দাবি— বিদ্যুৎ নিয়ে আর কোনো অজুহাত বা আশ্বাস শুনতে চান না তারা, দেখতে চান কার্যকর ফলাফল। নাগরিক সমাজ মনে করিয়ে দিচ্ছে, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের শাসক নয়, সেবক। তাই অবিলম্বে জনগণের ধৈর্যকে অবহেলা না করে কালীগঞ্জের বিদ্যুৎ সংকটকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত স্থায়ী ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে।