পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নাস্তা (মোগলাই) পাঠাতে সামান্য দেরি হওয়ায় এক নারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তার সহকারীকে বেধড়ক জুতাপেটার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যারাতে বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে এই অমানবিক হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত সহকারী লামিয়াকে দ্রুত উদ্ধার করে কলাপাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেছেন তার স্বজনরা। অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম তাসলিমা ফেরদৌসী রিমা।
হাসপাতালের শয্যা থেকে আহত লামিয়া জানান, তিনি দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে ওই নারী চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে চাকরি করে আসছেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ডা. রিমা তাকে তিনটি মোগলাই দ্রুত বাসায় পাঠাতে বলেন। নির্দেশ পেয়ে লামিয়া দেরি না করে মোগলাই কিনে চিকিৎসকের গাড়ি চালকের মাধ্যমে তা পাঠিয়ে দেন। কিন্তু চালক বাসায় পৌঁছাতে দেরি করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ডা. রিমা। লামিয়া এর কারণ ব্যাখ্যা করে জানান যে তিনি যথাসময়েই খাবার পাঠিয়ে দিয়েছিলেন, এতে তার কোনো দোষ নেই।
অভিযোগে আরও জানা যায়, এই কথা শোনার পরই ক্ষিপ্ত হয়ে চিকিৎসক তাসলিমা ফেরদৌসী রিমা তার সামনে থাকা কাচের ওয়েট পেপার লামিয়ার দিকে ছুঁড়ে মারেন। এরপর হাতের কাছে থাকা ফোন, হার্ডবোর্ডসহ অন্যান্য জিনিসপত্র নিক্ষেপ করার একপর্যায়ে জুতা দিয়ে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে জখম করেন। ভুক্তভোগী লামিয়ার স্বামী আলাউদ্দিন জানান, স্ত্রীর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগায় তিনি বেশ কয়েকবার বমি করেছেন এবং ওয়েট পেপার ছুড়ে মারায় তার বুকে সরাসরি আঘাত লেগেছে। তিনি এই ঘটনার সুষ্পষ্ট বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে এ ঘটনার পর স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ম্যাক্স হাসপাতালে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে চিকিৎসক তাসলিমা ফেরদৌসী রিমা মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, “স্টাফকে শাসন করা হয়েছে, মারধর করা হয়নি।” তবে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বাবা ঘটনাস্থলে এসে বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে তার সখ্যতার ভয় দেখিয়ে সাংবাদিকদের ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তেন মং জানান, বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হবে। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল এবং লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।