কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় ধানক্ষেত থেকে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন জান্নাতের (১৫) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সিএনজিচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম নগরী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহত জান্নাত যশোর সদর উপজেলার আব্দুল আলিমের মেয়ে। তার বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করায় পরিবার নিয়ে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। জান্নাত কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। নিয়মিত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে স্কুলে যাতায়াত করত সে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার একটি ধানক্ষেত থেকে জান্নাতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে তাকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি ঘটনাস্থলের পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
অভিযোগ উঠেছে, স্কুলে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত ওই অটোরিকশার চালক সুমন কৌশলে জান্নাতকে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানক্ষেতের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর অটোরিকশাটি ফেলে রেখে চালক পালিয়ে যায় বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম নগরী থেকে সিএনজিচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করে। তাকে কুমিল্লায় নেওয়া হচ্ছে। সেখানে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।