ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের কৃতি সন্তান মো. মুজিবুর রহমান সমাজসেবা, শিল্প-উন্নয়ন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘মাশরেকী পদক ২০২৫’ পেয়েছেন।
গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে লোকসাহিত্যিক ও কবি আবদুল হাই মাশরেকীর ১১৭তম জন্মোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে তাঁর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মো. মুজিবুর রহমান।
আয়োজকদের প্রকাশিত সম্মাননা স্মারকে বলা হয়, দেশের শিল্প ও ব্যবসা খাতের উন্নয়নে নতুন চিন্তা ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন, শিল্পের আধুনিকায়ন, বহুমুখীকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানোন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন মুজিবুর রহমান। শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে।
সম্মাননা স্মারকের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে রাবার, প্লাস্টিক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতের উন্নয়নে কাজ করছেন। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
পেশাগত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মুজিবুর রহমান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয়। ঢাকায় বসবাস করলেও ঈশ্বরগঞ্জের মানুষের সঙ্গে তাঁর রয়েছে গভীর আত্মিক সম্পর্ক। তিনি উত্তরাস্থ ঈশ্বরগঞ্জ কমিউনিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ঈশ্বরগঞ্জের বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানার পরিচালনা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততার কথা সম্মাননা স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুজিবুর রহমান ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ডেলগাড়ি গ্রামের সন্তান। শৈশব থেকেই তিনি নিজ এলাকার মাটি, মানুষ ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর পেশাজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি সমাজ ও মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।
কবি আবদুল হাই মাশরেকীর ১১৭তম জন্মোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘মাশরেকী পদক ২০২৫’ অর্জনকে মুজিবুর রহমানের দীর্ঘদিনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাগত কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, বাংলা লোকসাহিত্যের প্রখ্যাত কবি আবদুল হাই মাশরেকী ঈশ্বরগঞ্জের কৃতি সন্তান। মাটি, মানুষ, প্রকৃতি ও লোকজ সংস্কৃতিকে ধারণ করে তাঁর সাহিত্যকর্ম বাংলা সংস্কৃতিতে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। তাঁর জন্মোৎসবের এবারের আয়োজনে সাহিত্য ও সংস্কৃতির পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মাননা দেওয়া হয়।