রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের নিচতলার কক্ষে বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন ফার্নিচার কর্মী গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। গতকাল বুধবার (১ জুলাই) রাত পৌনে ১২টার দিকে কাঁঠালবাগানের ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি সাততলা ভবনের নিচতলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দগ্ধ ব্যক্তিদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধদের পরিচয় ও দুর্ঘটনার বিবরণ:
দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন— মো. জুয়েল (২০), তাঁর চাচাতো ভাই মো. পারভেজ (২১) ও রানা মিয়া। তাঁদের সবার বাড়ি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায়। তাঁরা কাঁঠালবাগানের একটি স্থানীয় ফার্নিচারের দোকানে কাজ করতেন।
দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা ফার্নিচার দোকানের মালিক রাজি মিয়া জানান, ওই ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে জুয়েল তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে ভাড়া থাকতেন। জুয়েলের বাবা-মা গ্রামে যাওয়ায় বুধবার রাতে কাজ শেষে জুয়েল তাঁর চাচাতো ভাই পারভেজ ও সহকর্মী রানাকে নিয়ে ওই কক্ষে ঘুমাতে যান। রাত পৌনে ১২টার দিকে কক্ষে ঢুকে মশার কয়েল জ্বালানোর জন্য ম্যাচ বা লাইটার জ্বালাতেই হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো কক্ষে আগুন ধরে যায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কক্ষের একপাশের দেয়াল ধসে পড়ে এবং সেফটি ট্যাংকের ঢাকনা খুলে যায়।
কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস:
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলে আশিক জানান, কক্ষটি গত দুই দিন ধরে বন্ধ ছিল। প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের ধারণা, কক্ষটি ভবনের সেফটি ট্যাংকের ওপর নির্মিত হওয়ায় এবং ভেতরে গ্যাসের পাইপলাইন থাকায় সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বিষাক্ত ও দাহ্য গ্যাস জমে ছিল। দুই দিন বন্ধ থাকার পর কক্ষে ঢুকে লাইটার বা ম্যাচ জ্বালাতেই জমে থাকা গ্যাসে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।
চিকিৎসকদের বক্তব্য ও বর্তমান অবস্থা:
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানান, দগ্ধদের মধ্যে রানা মিয়ার শরীরের ৬৩ শতাংশ পুড়ে গেছে। অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। এছাড়া জুয়েলের শরীরের ৩০ শতাংশ এবং পারভেজের শরীরের ২১ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাঁদের অবস্থাও আশঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা।