ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পাওনা টাকা নিয়ে এক ব্যক্তি নিহতের ঘটনার জের ধরে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়েছে দুই দলের গ্রামবাসী। সোমবার (২৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত উপজেলার কালিকচ্ছ বাজার এলাকায় সূর্যকান্দি ও ধরন্তি গ্রামের লোকজনের মধ্যে এই দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়াসহ পুলিশ ও উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
সহিংসতার নেপথ্য কারণ:
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সূর্যকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মোশারফ মিয়া পার্শ্ববর্তী ধরন্তি গ্রামের খাদিম মিয়া, আলাল ও আশিকের কাছে পাটি বিক্রির ১ লাখ টাকা পাওনা বলে দাবি করে আসছিলেন। তবে খাদিম মিয়া ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত রবিবার (২৮ জুন) রাতে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে মো. খাদিম মিয়া মারা যান।
জানাজা শেষে দ্বিতীয় দফায় রণক্ষেত্র:
খুনের ঘটনার পর সোমবার বিকেলে নিহত খাদিমের জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়। তবে জানাজা শেষ হতেই দুই গ্রামের বাসিন্দারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আবারও কালকচ্ছ বাজার এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ায়। প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে চলা এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে ইটের আঘাত ও ঢিলের ছোঁয়ায় সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার চোখ জখম হয়। এছাড়া পুলিশ সদস্য ও উভয় পক্ষের আরও ২৪ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি:
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ টিয়ারশেল ও ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে সংঘর্ষ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
তিনি আরও জানান, নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপরাধে ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে রবিবার রাতের সংঘর্ষে খাদিম মিয়া নামের একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় সোমবার রাত পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষই লিখিত এজাহার বা মামলা দায়ের করেনি। এলাকায় পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।