ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ২৫ বছর বয়সী ঈমন ইসলাম বাঁচতে চান। স্ত্রী ও দুই শিশুকন্যার ভবিষ্যতের জন্য সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান তিনি। তবে দুরারোগ্য এই ব্যাধির চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে তার পরিবার।
ঈমনের স্ত্রী গার্মেন্টসকর্মী টিসা আক্তার বিশ্বাস করেন, ঈমন সুস্থ হয়ে উঠলে তাদের পরিবার আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। অন্যদিকে একমাত্র ছেলেকে বাঁচাতে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করার পাশাপাশি সমাজের দানশীল ও মানবিক মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন ঈমনের মা রোকেয়া বেগম।
ছেলেকে বাঁচাতে মায়ের আকুতি, স্বামীকে বাঁচাতে স্ত্রীর আর্তনাদ এবং দুই শিশুকন্যার ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবারের উদ্বেগের খবর ছড়িয়ে পড়েছে বোয়ালখালীতে।
এ খবর পেয়ে গত ৬ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে ঈমন ইসলামের বাড়িতে ছুটে যান বোয়ালখালী সম্মিলিত বৌদ্ধ পরিষদের প্রধান প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা, বোয়ালখালী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি অধীর বড়ুয়া।
বোয়ালখালী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রায়খালী এলাকার জঙ্গা তালুকদার বাড়ির আরাকান সড়কের দক্ষিণ পাশে খালের পাড়ে অবস্থিত ঈমনদের অস্থায়ী বসতঘরে পৌঁছান তিনি।
সেখানে ঈমনের মা রোকেয়া বেগম, স্ত্রী টিসা আক্তার, পাঁচ বছর বয়সী কন্যা সিদদ্রাতুল মুনতাহা এবং চার মাস বয়সী কন্যা উম্মে হাবিবা মমি তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা, ঈমনের অসুস্থতা ও চিকিৎসার ব্যয়ের কথা তুলে ধরেন।
পরিবারের কথা শুনে অধীর বড়ুয়া ঈমনের পরিবারের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন। একই সঙ্গে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ঈমন ইসলামের চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য সমাজের বিত্তবান, দানশীল ও মানবিক মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
ঈমনের বাবা মোহাম্মদ আবদুল মান্নান একজন সিএনজি অটোরিকশা চালক। চার ভাই-বোনের মধ্যে ঈমন একমাত্র ছেলে; তার এক বোন বিবাহিত। পরিবারের সীমিত আয়ের কারণে ঈমনের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বোয়ালখালী প্রেসক্লাবের সদস্য তাজুল ইসলাম মানিক।