বাংলাদেশের ক্রিকেট অবকাঠামোকে ঢাকাকেন্দ্রিকতা থেকে বের করে আনতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে রংপুর। পাশাপাশি অবস্থিত তিনটি ক্রিকেট মাঠকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা গেলে উত্তরবঙ্গের এই শহর হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম বৃহৎ ক্রিকেট প্রশিক্ষণ ও ম্যাচ আয়োজনের কেন্দ্র।
রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়াম, রংপুর ক্রিকেট গার্ডেন এবং পাশের অনুশীলন মাঠকে ঘিরে এই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে একই সময়ে একাধিক ম্যাচ আয়োজন, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের প্রশিক্ষণ এবং উন্নতমানের অনুশীলন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হতে পারে।
রংপুরের ক্রিকেট অবকাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়াম, যা আগে রংপুর বিভাগীয় স্টেডিয়াম নামে পরিচিত ছিল। স্টেডিয়ামটির আধুনিকায়ন ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা আরও উন্নত করা গেলে বড় পরিসরে ক্রিকেট আয়োজনের সক্ষমতা বাড়তে পারে।
স্টেডিয়ামের পাশেই রয়েছে রংপুর ক্রিকেট গার্ডেন, যেখানে বিভিন্ন পর্যায়ের ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করা হয়। এর কাছাকাছি আরেকটি মাঠ অনুশীলনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। মাঠগুলোকে সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনা গেলে রংপুরে ক্রিকেট আয়োজনের পরিসর আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।
ঢাকার আশপাশে পুবেরগাঁও ক্রিকেট একাডেমির মতো একাধিক মাঠভিত্তিক ক্রিকেট অবকাঠামোর উদাহরণও দেখিয়েছে, পরিকল্পিত জায়গা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থাকলে একই ক্যাম্পাসে একাধিক ম্যাচ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব।
রংপুরের মাঠগুলোকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত ক্রিকেট কমপ্লেক্স গড়ে তোলার জন্য কয়েকটি উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
প্রথমত, তিনটি মাঠের অবকাঠামো, উইকেট, ড্রেনেজ ও আউটফিল্ডের অবস্থা মূল্যায়ন করে উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, খেলোয়াড়দের আবাসন, আধুনিক অনুশীলন নেট, জিমনেসিয়াম, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধা নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তত্ত্বাবধানে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট, ঘরোয়া প্রতিযোগিতা এবং উন্নত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়ানো।
পাশাপাশি ফ্লাডলাইট, সম্প্রচার সুবিধা, নিরাপত্তা ও দর্শকসুবিধা উন্নত করা গেলে বড় পরিসরে ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজনের সুযোগও বাড়বে। তবে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের উপযোগিতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কারিগরি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন লাগবে।
বাংলাদেশে ক্রিকেটের প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের বড় অংশ ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য আঞ্চলিক সুযোগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। রংপুরে পরিকল্পিত ক্রিকেট অবকাঠামো গড়ে উঠলে উত্তরাঞ্চলের খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়তে পারে।
এতে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রিকেটের প্রসার, ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থান এবং রংপুরের ক্রীড়া অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রংপুরের তিনটি মাঠকে ঘিরে ক্রিকেট হাব গড়ে তোলার সম্ভাবনা থাকলেও এর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে জমি ও অবকাঠামোর বর্তমান অবস্থা, উন্নয়ন ব্যয়, মাঠ ব্যবস্থাপনা এবং বিসিবি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনার ওপর।
এ জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, স্থানীয় প্রশাসন এবং ক্রীড়া অবকাঠামোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে রংপুর দেশের ক্রিকেট উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। এতে ঢাকার ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের ক্রিকেট প্রতিভা বিকাশের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।