৯ বিয়ে ও যৌতুকের অভিযোগে দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলায় জামিন পেয়েছেন ইসলামী আলোচক, লেখক ও ৩১৩ কোম্পানির চেয়ারম্যান মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ।
রোববার ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলার শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ২০ আগস্ট মুফতী মিছবাহর স্ত্রী হুমায়রা জান্নাত ওরফে নাঈমা যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলাটি করেন। মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে, কাবিন না করা এবং ২০ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য মারধরের অভিযোগ আনা হয়।
তবে শুনানিতে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে মুফতী মিছবাহর আইনজীবী আদালতে নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেন। আদালতে উপস্থাপন করা কাবিননামা অনুযায়ী ২০২১ সালের ২৯ মে নিবন্ধনের মাধ্যমেই তাঁদের বিয়ে হয় এবং নাঈমার পাসপোর্টেও স্বামীর নাম হিসেবে মুফতী মিছবাহর নাম রয়েছে।
তাছাড়া মামলায় ১০ আগস্ট রাতে মারধরের যে দাবি করা হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী রাত ৮টা ২০ মিনিটে অফিস থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর সেখানে যাননি। এমনকি ৯টি বিয়ের অভিযোগ তুলে মামলা করা হলেও মামলার আগে পাঠানো আইনজীবীর নোটিশে নাঈমা নিজেকে দ্বিতীয় স্ত্রী এবং ফেসবুকে ষষ্ঠ স্ত্রী দাবি করেছিলেন, যা মারাত্মক তথ্যগত অসঙ্গতি নির্দেশ করে।
আদালতে আরও জানানো হয়, যে কুতুবখালীর ভবনে ২০২০ সালে শ্লীলতাহানির কথা বলা হয়েছে, সেই ভবনটি উদ্বোধনই হয়েছে ২০২৪ সালে। অন্যদিকে মামলার বেশ কয়েকজন সাক্ষী এবং নাঈমার পরিবারিক স্বজনরাও ভিডিও বার্তায় মামলাটিকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।
জামিন পাওয়ার পর মুফতী মিছবাহ জানান, তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করা এবং তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করে ৫০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে একটি চক্র এই চক্রান্ত করেছে। তিনি তাঁর দেড় বছর বয়সী সন্তান আফরাদ বিন মিছবাহর নিরাপত্তা চেয়ে ঘটনার সুষ্ঠু অনুসন্ধানের দাবি জানান।