খুলনার ভৈরব নদীর ওপর নির্মাণাধীন বহুল প্রতীক্ষিত ভৈরব সেতুর নকশায় চারটি বড় ও আধুনিক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। নতুন পরিকল্পনা ও নকশা অনুযায়ী নদীর মাঝে কোনো পিলার বা স্তম্ভ রাখা হবে না। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকল্পের নকশা পরিবর্তনের কারণে প্রাথমিক ব্যয় ৬১৭ কোটি টাকা থেকে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে পৌনে ৮০০ কোটি টাকায় উন্নীত হতে পারে।
সংশোধিত নকশায় যেসব বড় পরিবর্তন আসছে:
১. পিলারবিহীন নদীপথ: নৌযান চলাচলে যেন কোনো বাধা না সৃষ্টি হয়, সেজন্য ভৈরব নদীর মাঝখানের অংশ কোনো পিলার ছাড়া স্টিল স্ট্রাকচার স্প্যানে নির্মিত হবে।
২. প্রস্থ বৃদ্ধি: ভবিষ্যতের অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামলাতে সেতুর প্রস্থ তিন মিটার বাড়িয়ে পূর্ণাঙ্গ দুই লেনে রূপান্তর করা হবে।
৩. আধুনিক ফ্লাইওভার সংযোজন: শহর প্রান্তে খুলনা-যশোর মহাসড়কের রেলিগেট স্টাফ কোয়ার্টার মোড়ে ১৫ মিটার উচ্চতায় ৫০ মিটার ব্যাসের একটি গোলাকৃতির অত্যাধুনিক ইন্টারসেকশন (ফ্লাইওভার) নির্মাণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
৪. উন্নত প্রযুক্তির স্প্যান: ২০১৬-১৭ সালে করা মূল নকশায় প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে ১০০ মিটারের বেশি স্প্যান সম্ভব ছিল না। বর্তমানে সওজ উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে ১৫০ মিটারের স্প্যান বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
খুলনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক জানান, সংশোধিত এই ডিপিপি মন্ত্রণালয় হয়ে একনেক (ECNEC) সভায় অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। প্রশাসনিক অনুমোদন ও প্রাথমিক প্রস্তুতিতে প্রায় এক বছর এবং মূল নির্মাণে দুই বছর সময় লাগবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে সেতুর কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে একনেকে ৬১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমোদন পাওয়ার পর ২০২১ সালের মে মাসে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। চুক্তির নির্ধারিত মেয়াদ পার হলেও নদীর পানির নাব্যতা ও নকশাগত জটিলতার কারণে কাজ থমকে ছিল। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ১৮ শতাংশ এবং ৩০টি পিলারের মধ্যে ২১টি দৃশ্যমান হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড (করিম গ্রুপ)।