ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের গোয়ালপুতা গ্রামে ফারুক মাতুব্বর (৩০) নামের এক গাছকাটা শ্রমিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে নিজ বসতঘর থেকে তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফারুক মাতুব্বর গোয়ালপুতা গ্রামের মো. মজনু মাতুব্বরের ছেলে। তিনি পেশায় একজন গাছকাটা শ্রমিক ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে ফারুক নিজ শয়নকক্ষে অবস্থান করছিলেন। সকালে তাঁর বাবা মজনু মাতুব্বর ছেলের ঘরের সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ পাননি। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আবারও ডাকতে গিয়ে ঘরের চালের রুয়ার সঙ্গে গাছ কাটার কাজে ব্যবহৃত রশিতে ফারুককে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার আগের রাতে বাবা খাবার দিয়ে গেলেও ফারুক তা স্পর্শও করেননি।
নিহতের স্বজনরা জানান, মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্রে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সুমি আক্তারের (২৫) সঙ্গে ফারুকের বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু প্রায় দুই মাস আগে পারিবারিক কলহের জেরে সুমি তাঁদের দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। নিহতের ভাবি রুমা আক্তার বলেন, “স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে চলে যাওয়ার পর থেকেই ফারুক খুব চুপচাপ থাকতেন এবং চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।” ধারণা করা হচ্ছে, এই মানসিক কষ্ট সহ্য করতে না পেরেই তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন।
নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাসুল সানদানী আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (সাবেক ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ)-এর মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোয়ালপুতা গ্রামে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।