সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীর স্বজন ও এক সংবাদকর্মীর সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার এবং প্রেসক্রিপশন ছিঁড়ে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত ১৫ জুলাই ২০২৬ (বুধবার) এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ওইদিন জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. ইন্দ্রজিৎ জোয়াদ্দার চিকিৎসা নিতে আসা এক মুমূর্ষু রোগীর স্বজনদের সঙ্গে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি রোগীর স্বজনদের প্রতি অত্যন্ত অসৌজন্যমূলক ও অমানবিক আচরণ শুরু করেন।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সাংবাদিক ইয়াসিন আরাফাত। জরুরি বিভাগের মতো একটি সংবেদনশীল স্থানে এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দেখে এবং রোগীর স্বজনদের অনুরোধে তিনি বিষয়টি শান্ত করার জন্য মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে সংযত আচরণ এবং রোগীদের প্রতি মানবিক হওয়ার আহ্বান জানান।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকের এই আন্তরিক মধ্যস্থতায় ডা. ইন্দ্রজিৎ জোয়াদ্দার আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং উপস্থিত সকলের সামনেই রোগীর চিকিৎসার জন্য লিখিত সরকারি প্রেসক্রিপশনটি টেনে ছিঁড়ে ফেলেন। একই সঙ্গে তিনি উপস্থিত সকলের সাথে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অকথ্য ভাষায় কথা বলেন, যা উপস্থিত সেবাগ্রহীতা ও সাধারণ মানুষের মনে চরম বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের কাছ থেকে এমন আচরণ একেবারেই অপ্রত্যাশিত। সরকারি হাসপাতালে যদি চিকিৎসকদের কাছ থেকেই এমন দুর্ব্যবহার পেতে হয়, তাহলে সাধারণ অসহায় মানুষ কোথায় যাবে? এ ধরনের অপেশাদার আচরণের কারণেই মানুষ নিরুপায় হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকমুখী হচ্ছে।”
এদিকে, সরকারি হাসপাতালের অভ্যন্তরে একজন চিকিৎসকের এমন অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ডের ঘটনায় সাতক্ষীরার স্থানীয় সচেতন মহল, ভুক্তভোগী পরিবার এবং সাংবাদিক সমাজের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অতি দ্রুত এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. ইন্দ্রজিৎ জোয়াদ্দার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।