কুষ্টিয়ার হরিপুর ব্রিজের নিচে তরুণী সেজে একাধিক প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে এসে হাতেনাতে ধরা পড়েছে এক প্রতারক যুবক। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেয়ে সেজে এবং কণ্ঠের মায়াজালে ফেলে বেশ কয়েকজন যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার পর অবশেষে উন্মোচিত হলো তার আসল পরিচয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছদ্মবেশী ওই যুবক একই সাথে একাধিক ছেলের সাথে প্রেম ও ডেটিং করে আসছিল। বিষয়টি কোনোভাবে বুঝতে পেরে তার ক্ষুব্ধ প্রেমিকরা তাকে ফাঁদ পেতে কুষ্টিয়া হরিপুর ব্রিজের নিচে ডেকে আনে। সেখানে তাকে হাতেনাতে ধরে চরম উত্তম-মধ্যম দেওয়া শুরু করলে একপর্যায়ে সে দৌড়ে গিয়ে নিকটস্থ একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়।
উদ্ধার করতে গিয়ে চোখ কপালে উঠলো বাড়ির মালিকের
বাড়ির বাসিন্দারা তাকে ‘অসহায় মেয়ে’ ভেবে মারধরের হাত থেকে বাঁচাতে ঘরের ভেতর আশ্রয় দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ার পরেও যখন সে কোনোভাবেই তার মুখের পর্দা (হিজাব ও নেকাব) খুলতে রাজি হচ্ছিল না, তখন বাড়ির লোকজনের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। পরবর্তীতে জোরপূর্বক তার মুখের পর্দা সরানো হলে উপস্থিত সবার চোখ কপালে ওঠে! দেখা যায়, যাকে তারা মেয়ে ভেবে এতক্ষণ বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন, সে আসলে মেয়ে রূপের এক যুবক।
গণপিটুনি খেয়ে এলাকা ছাড়া
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার সাথে সাথে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই ছদ্মবেশী যুবককে গণপিটুনি দেয়। পরবর্তীতে তীব্র গণধোলাই খেয়ে লোকলজ্জার ভয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে সেই ছেলেটি। এই ঘটনার পর স্থানীয় সচেতন মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপরিচিত কারো সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর আগে সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।