দিনাজপুরের পার্বতীপুর শহরে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে নিম্নমানের খাবার, মিষ্টি, দই এবং খোরমা তৈরি ও বিক্রির দায়ে তিনটি হোটেল-রেস্তোরাঁ ও একটি নামী বেকারিকে মোট ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকদের ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদেশ দিয়েছেন আদালত।
গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই, ২০২৬) সন্ধ্যায় পার্বতীপুর শহরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকায় দিনাজপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৫-এর বিজ্ঞ বিচারক সোহাগ হোসেনের নেতৃত্বে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
জরিমানাকৃত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— শহরের ঐতিহ্যবাহী শাহ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, মুক্তিযোদ্ধা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, মামা-ভাগিনা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট এবং তাজ বেকারি।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এসব নামী-দামী প্রতিষ্ঠানে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের কাঁচামাল দিয়ে খাদ্যসামগ্রী প্রস্তুত ও বিক্রি করা হচ্ছিল। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের প্রিয় মিষ্টি, দই ও খোরমা তৈরিতে মারাত্মক সব অনিয়ম এবং মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ক্ষতিকারক রাসায়নিক ও উপাদান ব্যবহারের হাতেনাতে প্রমাণ পাওয়া যায়। অভিযানের সময় অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকরা বিজ্ঞ আদালতের কাছে নিজেদের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপদ খাদ্য ও ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্ট আইনের বিভিন্ন ধারা মোতাবেক অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তিনটি হোটেলকে ১ লাখ টাকা করে মোট ৩ লাখ টাকা এবং তাজ বেকারিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার এই অর্থ অনাদায়ে প্রত্যেক মালিকের বিরুদ্ধে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
অভিযান শেষে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোহাগ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আমাদের এই কঠোর অবস্থান। আইন অমান্যকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতেও পার্বতীপুর উপজেলার প্রতিটি হোটেল-রেস্তোরাঁ, মিষ্টির দোকান ও বেকারিগুলোতে কঠোর নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের এমন ঝটিকা অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এদিকে দীর্ঘদিন পর পার্বতীপুর শহরে জেলা প্রশাসনের এমন বড় ধরনের ও কার্যকারী অভিযানে স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ। তারা জনস্বার্থে এই ভেজালবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।