রাজশাহী জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব নাঈমুল হাছান-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব সেরাজুল হকের নেতৃত্বে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার (৮ জুলাই, ২০২৬) দিবাগত রাত থেকে ভোররাত পর্যন্ত থানার একটি চৌকস টিম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান চালায়।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে চুরির মামলার ২ জন, মাদকসহ ১ জন, এনআই অ্যাক্টের পরোয়ানাভুক্ত ২ জন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় ২ জন আসামি রয়েছেন।
জিজ্ঞাসাবাদে চুরির মালামাল উদ্ধার:
গত ৫ জুলাই ভোররাতে উপজেলার তেপুকুরিয়া গ্রামের মানিকুর রহমানের বাড়ি থেকে একটি ল্যাপটপ, চার্জার, ইলেকট্রিক চুলা ও স্পিকারসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় গত ৮ জুলাই বাউসা ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের নাঈম ইসলাম (৩০) ও তেতুলিয়া গ্রামের মনিরুল ইসলাম (৩০)-কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চুরি হওয়া ইলেকট্রিক চুলা, একজোড়া স্পিকার ও ল্যাপটপের চার্জার উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় বাঘা থানায় একটি নিয়মিত চুরি মামলা রুজু হয়েছে।
মাদকসহ যুবক গ্রেপ্তার:
অভিযানের অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মনিগ্রাম ইউনিয়নের হাবাশপুর এলাকা থেকে ৮ পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. মারুফ (২০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে হাবাশপুর গ্রামের মাহবুবুর রহমানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে বাঘা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।
পরোয়ানা ও অন্যান্য অপরাধে গ্রেপ্তার ৪:
এনআই অ্যাক্টের (চেক ডিজঅনার) পরোয়ানাভুক্ত সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি বাজুবাঘা উত্তরপাড়া গ্রামের আব্দুল করিম এবং চক ছাতারি গ্রামের সিরাজুল ইসলামকে নিজ নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়া আড়ানী এলাকা থেকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় (শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কায়) নাটোরের লালপুর এলাকার কামরুল ইসলাম (৩২) ও বাগাতিপাড়ার সোহেল রানা (৩৭)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব সেরাজুল হক জানান, গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে বাঘা থানা পুলিশের এই ধরনের ঝটিকা অভিযান অব্যাহত থাকবে।