সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে দীর্ঘদিন ধরে জেলে ও বাওয়ালীদের জিম্মি করে ত্রাস সৃষ্টিকারী কুখ্যাত দস্যু ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র তিন সক্রিয় সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই, ২০২৬) সকালে মোংলা কোস্ট গার্ডের সদর দপ্তরে তাঁরা আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় দস্যুদের কবল থেকে জিম্মি থাকা একজন জেলেকেও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বিসিজিএস কামরুজ্জামানের নির্বাহী কর্মকর্তা কমান্ডার মো. মানসুরুন মাহ্দীন সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা হলেন—আল আমিন হোসেন, তৈবুর রহমান এবং মনিরুজ্জামান ওরফে মামুন।
কোস্ট গার্ড জানায়, সফল এই অভিযানের পর দস্যুদের কাছ থেকে ২টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১টি দেশীয় পাইপগান এবং ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। মূলত সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি এবং ধারাবাহিক অভিযানের মুখে কোণঠাসা হয়েই দস্যুরা আত্মসমর্পণের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। সুন্দরবনকে পুরোপুরি দস্যুমুক্ত করার লক্ষ্যে চলমান বিশেষ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এটিকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে প্রশাসন।
স্থানীয় বনজীবী ও ভুক্তভোগী জেলেদের সূত্রে জানা যায়, আত্মসমর্পণকারী এই দস্যুদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে সুন্দরবনের জেলে ও বাওয়ালীদের জিম্মি করে লক্ষ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। এই বাহিনীটি সুন্দরবনের বিভিন্ন চ্যানেলে নিয়মিত টহল দিয়ে মাছ ধরার নৌকায় আক্রমণ চালাত এবং দাবিকৃত অর্থ আদায় না হওয়া পর্যন্ত জেলেদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালাত।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুন্দরবনে দস্যুতা নির্মূলে পরিচালিত ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামক দুটি বিশেষ অভিযানের ফলে এমন সফলতা দৃশ্যমান হচ্ছে। কমান্ডার মো. মানসুরুন মাহ্দীন জানান, আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের আইনি প্রক্রিয়ায় স্থানীয় থানায় হস্তান্তরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এর আগে গত ২১ মে ‘ছোট সুমন বাহিনী’র সাত সদস্যের আত্মসমর্পণের ঘটনা ঘটেছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। যারা এখনও সুন্দরবনে দস্যুতার সাথে জড়িত, তাদের অতি দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে; অন্যথায় আরও কঠোর আইনি ও সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।