
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে দেশজুড়ে চলমান টানা বর্ষণের জেরে দেশের চারটি বিভাগে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। আগামী তিন দিনে এসব অঞ্চলের প্রধান প্রধান কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। আজ বুধবার (৮ জুলাই, ২০২৬) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এক সতর্কবার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে আশার কথা হলো, তিন দিন পর অর্থাৎ আগামী শনিবার থেকে এই পরিস্থিতির ক্রমান্বয়ে উন্নতি হতে পারে।
আবহাওয়া অফিস ও বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, নিম্নচাপের প্রভাবে গত তিন দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। কিছু কিছু এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২০০ মিলিমিটার ছাড়িয়ে গেছে, যার মধ্যে গতকাল চট্টগ্রামে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৩৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আজ বুধবারও দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে এবং এই পরিস্থিতি আগামী শনিবার পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে।
টানা এই বৃষ্টির প্রভাবে ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের পাহাড়ি ও প্রধান নদীগুলোর পানি বাড়তে শুরু করেছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে দেশের উত্তর-পূর্ব, পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলা যথাক্রমে—সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, ফেনী, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কিছু নিচু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানান, “বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। একই সঙ্গে সুরমা-কুশিয়ারা, গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, দুধকুমার ও ধরলাসহ প্রধান নদীগুলোর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, যে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, তা মূলত তিন দিন স্থায়ী হতে পারে। এরপর শনিবার থেকে আবহাওয়া পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে সাথে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি আশা করা যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরীণ বৃষ্টির পাশাপাশি ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরাসহ সংলগ্ন উজান এলাকাগুলোতেও ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা নদীগুলোর পানি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। নদী তীরবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।