চলতি জুন মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম বৃষ্টিপাত এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দেওয়া বিশেষজ্ঞ কমিটি। তবে জুনের প্রথমার্ধেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষাকাল সারা দেশে বিস্তার লাভ করতে পারে। বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থাগুলোর মতে, আগামী ১০ জুনের আশপাশে মৌসুমি বায়ু দেশে সক্রিয় হতে পারে এবং ১১-১২ জুন থেকে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে।
ঢাকার ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত কমিটির নিয়মিত সভার বরাত দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম জানান, বর্ষা শুরু হলেও মাসজুড়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম থাকতে পারে।
২ থেকে ৩টি তাপপ্রবাহের আশঙ্কা:
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জুন মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। এ সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২ থেকে ৩টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। মৃদু তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মাঝারি তাপপ্রবাহে ৩৮ থেকে ৩৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। এছাড়া মাসজুড়ে ৫ থেকে ৭ দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, দেশের কয়েকটি এলাকায় (বগুড়া, রাজশাহী, নেত্রকোনা ও রংপুর) বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত শুরু হলেও তা এখনই তাপপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর মতো নয়। তাপপ্রবাহ পুরোপুরি প্রশমিত হতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে। ঢাকায় এখনো উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি এবং গরমের অনুভূতি অব্যাহত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বর্তমানে মিয়ানমার উপকূলের কাছে অবস্থান করছে। বাংলাদেশে পৌঁছাতে আরও তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে।
বিভাগে বিভাগে যেমন হতে পারে বৃষ্টিপাত:
জুন মাসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই সময়ে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ৬০০ থেকে ৬৩০ মিলিমিটার, বরিশাল বিভাগে ৪২০ থেকে ৪৭০ মিলিমিটার, রংপুর বিভাগে ৪০০ থেকে ৳৪২০ মিলিমিটার, ঢাকা বিভাগে ৩৩০ থেকে ৩identity৫০ মিলিমিটার, খুলনা বিভাগে ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার এবং রাজশাহী বিভাগে ২৭০ থেকে ২৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এদিকে বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমের (বিডব্লিউওটি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান জানান, বর্তমানে চলমান তাপপ্রবাহের প্রভাব কম-বেশি ১০ জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ৫ জুনের পর বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত বাড়তে শুরু করলে তাপপ্রবাহের তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। ১০ জুনের পর দেশের অভ্যন্তরে মৌসুমি বায়ু আরও সক্রিয় হয়ে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের বিস্তার ঘটাতে পারে। এ বছর জুন মাসে অতিভারী বর্ষণের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। ভারী বৃষ্টিপাত হলেও তা মাসের শেষার্ধে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতি ও মে মাসের আবহাওয়ার খতিয়ান:
নদ-নদীর পরিস্থিতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, দেশের প্রধান নদীগুলোর পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকতে পারে। তবে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্ন ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু নদ-নদীর পানি সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। জুনের প্রথমার্ধে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও মাসের শেষার্ধে উত্তরাঞ্চলে নিচু এলাকাগুলোতে স্থানীয়ভাবে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
উল্লেখ্য, বিদায়ী মে মাসে সারাদেশে গড়ে ২৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৭.৪ শতাংশ বেশি। মে মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১৮ মে, চুয়াডাঙ্গা) এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৩ মে, সিলেট)। সামগ্রিকভাবে মে মাসে দেশের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম ছিল।