কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীর তড়িয়া মহলের খাজনা আদায়কে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নাসিরুল বিশ্বাস (৪০) নামের এক বালু ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গত রবিবার (৫ জুলাই) বিকেল ছয়টার দিকে উপজেলার হার্ডিং ব্রিজ সংলগ্ন পুরাতন ফেরিঘাট মনিপার্ক এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ নাসিরুল বিশ্বাস উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের মৃত আবু এসপির ছেলে। ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার বিবরণ ও ধস্তাধস্তি:
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বালু ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকেলে হার্ডিং ব্রিজ সংলগ্ন পুরাতন ফেরিঘাট মনিপার্ক এলাকায় একদল মুখোশধারী এসে তড়িয়া মহলের খাজনার টাকা দাবি করে। সে সময় আলম নামের এক বালু ব্যবসায়ী জানান, তিনি পূর্বেই অন্য একটি গ্রুপকে খাজনার টাকা দিয়ে দিয়েছেন। এ নিয়ে কোনো ঝামেলা না করে নিজেদের মধ্যে আপোষ-মীমাংসা করার অনুরোধ করেন তিনি।
এই আলোচনা চলাকালেই মুখোশধারী গ্রুপের সাথে অপর গ্রুপের সদস্য নাসিরুল বিশ্বাস ও রাজ্জাক নামের দুই ব্যক্তির তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতি বেঁধে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে নাসিরুল সেখান থেকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে মুখোশধারীরা তাকে লক্ষ্য করে পেছন থেকে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে। এতে একটি গুলি তার পায়ে এবং অপরটি পিঠে বিদ্ধ হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড:
রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা নাসিরুলকে উদ্ধার করে দ্রুত ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কল্লোল সাহা জানান, আহত নাসিরুলের পায়ে লাগা গুলিটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বের করা সম্ভব হলেও পিঠের ভেতরে ঢুকে যাওয়া অপর গুলিটি বের করা যায়নি। তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও মুমূর্ষু হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনার সাথে জড়িত উভয় পক্ষই স্থানীয় একই রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য।
পুলিশের বক্তব্য:
ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, পদ্মা নদীর তড়িয়া মহলের খাজনা আদায়ের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে বালু ব্যবসায়ী নাসিরুল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ বা এজাহার দায়ের করা হলে দ্রুত মামলা গ্রহণ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।