বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে মৌসুমি নিম্নচাপে রূপ নেওয়ায় উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশের সমুদ্র উপকূলীয় জনপদ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের সব সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদফতর।
আজ রোববার দুপুরে আবহাওয়া অফিসের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিম্নচাপটি বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন ভারতের উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছে। এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫১০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে এবং মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৮৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উপকূলীয় জেলাগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে বাতাসের গতিবেগ ও সমুদ্রের উত্তাল ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও তীব্র হতে পারে।
ঝুঁকিতে জেলেরা, নিরাপদ আশ্রয়ে ফেরার নির্দেশ:
নিম্নচাপের এই সক্রিয় উপস্থিতির ফলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছেন উপকূলীয় জেলে ও সমুদ্রগামী নাবিকরা। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। বর্তমানে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার রেকর্ড করা হলেও তা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সমুদ্র উত্তাল থাকায় মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার মৎস্যজীবী পরিবার জীবিকার সংকটে পড়েছে। উপকূলীয় মৎস্যজীবীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র বা নিরাপদ জেটির অভাবে অনেক ট্রলারকে মাঝ সমুদ্রে বা অরক্ষিত মোহনায় নোঙর করতে হচ্ছে। স্থানীয় জেলেরা দুর্যোগের এই সময়ে সাগরে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জরুরি উদ্ধারকারী দল মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসনের প্রস্তুতি ও সার্বক্ষণিক নজরদারি:
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমুদ্রবন্দরগুলোতে সতর্কতা বজায় রাখতে এবং নিয়মিত মাইকিংয়ের মাধ্যমে উপকূলীয় জনগণকে সচেতন করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে দুর্যোগকালীন সময়ে সমুদ্রের গভীর এলাকায় কোনো নৌযান যাতে অবস্থান না করে, সে বিষয়ে কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশকে টহল জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।