মোক্তার হোসেন, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
৫ জুলাই ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

এক যুগ পার হলেও সংস্কারহীন কয়রার বেড়িবাঁধ, প্লাবনের আশঙ্কায় চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

সুন্দরবন সংলগ্ন সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা খুলনার কয়রা উপজেলায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ কাম গ্রামীণ সড়কটি সংস্কার না করায় তা সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা এই সড়কের কারণে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। বর্তমান বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানিতে পুরো এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে স্থানীয়দের।

আইলা-পরবর্তী পরিস্থিতি ও বর্তমান বেহাল দশা:

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৫নং কয়রা গ্রামের নদী রক্ষা বাঁধটি (যা গ্রামীণ সড়ক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়) নব্বইয়ের দশকে নির্মিত হয়েছিল। ২০০৯ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’র আঘাতে বাঁধটি লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়ার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় তা সামাল দেওয়া হয় এবং পাউবো সড়কটি মেরামত করে। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের দিকে নদী ভাঙন ঠেকাতে বাঁধের ৫০০ মিটার এলাকায় আরসিসি ব্লক বসানোর উদ্যোগ নেয় পাউবো। তবে ব্লক বসানোর পর দীর্ঘ ১৩ বছর পার হয়ে গেলেও আর কোনো সংস্কার কাজ করা হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ৪নং লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশের আরসিসি ব্লক অংশ থেকে স্লুইসগেট অভিমুখী প্রায় ৮০০ মিটার বেড়িবাঁধ দীর্ঘ এক যুগ ধরে সম্পূর্ণ সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে বাঁধের ভেতরের অংশ থেকে মাটি সরে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি বাঁধের দুটি স্থান দিয়ে ‘ঘোগ’ (ভেতরের গর্ত) তৈরি হয়ে জোয়ারের সময় নদীর লবণাক্ত পানি সরাসরি লোকালয়ে প্রবেশ করছে।

আইনি জটিলতা ও জনদুর্ভোগ:

দীর্ঘদিনের পুরোনো আরসিসি ব্লকের টেম্পারিং নষ্ট হয়ে রাস্তাটি এখন পুরোপুরি চলাচলের অযোগ্য। এলাকাবাসীরা জানান, রাস্তাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় হওয়ায় আইনি জটিলতার কারণে ইউনিয়ন পরিষদ এখানে কোনো কাজ করতে পারে না। অথচ দুর্যোগের সময় এটিই নদী রক্ষা বাঁধ এবং স্থানীয়দের নিরাপদ আশ্রয় ও জরুরি যাতায়াতের একমাত্র ভরসা।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, “সিসি ব্লকের আবরণ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গোলাম সরদারের বাড়ি থেকে স্লুইসগেট পর্যন্ত অংশটি যদি দ্রুত মাটি দিয়ে সংস্কার করা না হয়, তবে চলতি বর্ষা মৌসুমে বড় জোয়ারের চাপে পুরো এলাকা আবার প্লাবিত হতে পারে।”

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সুলতান মাহমুদ বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আগামী বাজেটে ৪নং কয়রা লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে স্লুইসগেট অভিমুখী ওই ক্ষতিগ্রস্ত আরসিসি ব্লকের রাস্তাটি সংস্কারের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। আশা করছি দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।”

মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বৃষ্টির পানিতে নরসিংহাটি আকসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভাঙন, ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা!

পার্বতীপুরে নিজ ঘর থেকে মা ও কিশোরী মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার!

গুগলে ‘চোরের দলের ফুটবল খেলা কবে’ সার্চ দিলেই আসছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের তথ্য!

বেলকুচির মাইঝাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঈর্ষণীয় সাফল্য, প্রশংসায় ভাসছেন শিক্ষকরা!

সাংবাদিকদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে পার্বতীপুর উপজেলা যুবদলের উপহার সামগ্রী প্রদান

তৈয়বা মজুমদার রক্তকেন্দ্রে সাড়ে ৪ কোটি টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতি হস্তান্তর

কুষ্টিয়ায় বিজিবির উদ্যোগে সীমান্তবর্তী ১০০ অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

নেত্রকোনায় চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর

রাজশাহীতে পদ্মার পানি বেড়ে মৌসুমের সর্বোচ্চ, ডুবছে চর

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার রোধে দিনাজপুরে মতবিনিময় সভা

১০

‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচিতে দিনাজপুর জেলা পুলিশের সবুজায়ন উদ্যোগ

১১

দুই মাস পর সচল মধ্যপাড়া খনি, শুরু হলো পাথর উত্তোলন

১২

মিঠাপুকুরে কলেজছাত্রী খুশীর রহস্যজনক মৃত্যু: অপমৃত্যুর আড়ালে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের লোমহর্ষক ক্লু উন্মোচন

১৩

দিনাজপুর জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার মো. ফরহাদ সরকারের বিদায় সংবর্ধনা

১৪

কুয়েটে ১৬তম জাতীয় আন্ডারগ্রাজুয়েট ম্যাথ অলিম্পিয়াডের কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

১৫

কুয়েটে ‘বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ-২০২৬’ উদ্বোধন: সবুজ ক্যাম্পাস গড়ার প্রত্যয়

১৬

নানাবাড়িতে খেলতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশুর: অরক্ষিত সেফটি ট্যাংকে ভাসছিল ২ বছরের ইফাত

১৭

বাগেরহাটে টানা বর্ষণে ৭ হাজার ঘের প্লাবিত: শত কোটি টাকার ক্ষতিতে নিঃস্ব মৎস্যচাষিরা

১৮

কৃষক বাবার অসাধারণ সাফল্য: ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে রাজশাহীর হাসিবুর!

১৯

নেত্রকোণায় রথযাত্রা উপলক্ষে জেলা পুলিশের মতবিনিময় সভা: সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রত্যয়

২০