দিনাজপুরের বিরামপুরে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মারধর, গুরুতর আহত করা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. এনামুল হক বাদী হয়ে বিরামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
বিরোধ ও হামলার বিবরণ:
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. এনামুল হকের সঙ্গে অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলমের পূর্ব থেকেই বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে গত ১৫ জুন (২০২৬) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বিরামপুর পৌরসভার বিএনপি মোড় সংলগ্ন স্টেশন রোড এলাকার একটি খাবার হোটেলের সামনে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রকাশ্যে এনামুল হককে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং তার ডান হাত গুরুতর জখম হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করেন।
চিকিৎসা ও বর্তমান পরিস্থিতি:
পরদিন ভুক্তভোগীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক তার ডান হাতে প্লাস্টার করেন এবং ২৮ দিন পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মারধরের সময় অভিযুক্ত তাকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকিও দেন। এ কারণে তিনি ও তার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার আবেদন জানান।
অভিযুক্তের বক্তব্য ও স্থানীয়দের দাবি:
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া বা যোগাযোগ পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিরামপুর রেলস্টেশন ও আশপাশের এলাকায় প্রায়শই বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে। আইনের শাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা সুদৃঢ় করতে এই অভিযোগটির সুনির্দিষ্ট ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।