সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের অপপ্রয়াসে লিপ্ত একটি সক্রিয় শিকারি চক্রের চার সদস্যকে হরিণ শিকারের ফাঁদ পাতার সময় হাতেনাতে আটক করেছে বন বিভাগ। আটককৃতদের মধ্যে অন্যতম রয়েছে বন বিভাগের তালিকাভুক্ত কুখ্যাত শিকারি ফরিদ হাওলাদার।
গত শনিবার (৪ জুলাই ২০২৬) ভোরে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের মৃগামারী খাল সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত টহল চলাকালীন বনরক্ষীদের একটি বিশেষ দল এই সফল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে হরিণ শিকারের জন্য ব্যবহৃত অসংখ্য ফাঁদ এবং অবৈধভাবে আহরিত বিপুল পরিমাণ কাঁকড়া জব্দ করা হয়।
আটককৃতদের পরিচয় ও অপরাধের ধরন:
আটককৃত শিকারিরা হলেন— মোংলা উপজেলার দক্ষিণ চিলা গ্রামের ফরিদ হাওলাদার (ওরফে টাকু ফরিদ), আতাউর খান, মোজাম জমাদ্দার এবং রুহুল জমাদ্দার। স্থানীয় সূত্র ও বন বিভাগের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এরা সবাই দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে অসাধু উপায়ে বন্যপ্রাণী নিধনের সঙ্গে জড়িত।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আটককৃত ফরিদ হাওলাদার ওরফে টাকু ফরিদ সুন্দরবনের হরিণ শিকারি চক্রের অন্যতম মূলহোতা। এই চক্রটি মূলত সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধভাবে প্রবেশ করে কাঁকড়া শিকারের আড়ালে বন্যপ্রাণী পাচারের সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছিল। বনের গহীন অঞ্চলে সুপরিকল্পিতভাবে ফাঁদ পেতে হরিণ নিধনের মাধ্যমে তারা সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান ও পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে নষ্ট করছে।
বন বিভাগের জিরো টলারেন্স ও আইনি পদক্ষেপ:
বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটিকে ধরার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (DFO) জানিয়েছেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে বন আইনে কঠোর মামলা দায়ের করে বাগেরহাট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় বন বিভাগ এখন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে এবং বনের প্রতিটি পয়েন্টে টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।
পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ:
সুন্দরবনের মতো সংরক্ষিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটে হরিণ শিকারের ঘটনাকে জাতীয় প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসের শামিল বলে উল্লেখ করেছেন পরিবেশবাদীরা। তাঁরা মনে করছেন, কেবল সাময়িক আইনি পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়, বরং এই শিকারি চক্রের মূল উৎপাটন করতে হলে বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত ও ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজন। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে।