রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের ওপর বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তাঁর একটি হাত ভেঙে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে। গত সোমবার (২৯ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ৪ নম্বর দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়নের যুগিশো (উত্তরপাড়া) গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত সেনা সদস্য মো. আহাদ আলী (অবসরপ্রাপ্ত) ওই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০২২ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করে নিজ এলাকায় একটি কীটনাশকের দোকান পরিচালনা করছেন।
ঘটনার বিবরণ ও পটভূমি:
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুন সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে নিজের জমির ওপর দিয়ে অন্য একজনকে চলাচলের জন্য রাস্তা করে দিতে শ্রমিক দিয়ে কাজ শুরু করেন আহাদ আলী। এ সময় অভিযুক্ত পাখি এসে কাজে বাধা দিলে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও একপর্যায়ে হাতাহাতির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি সাময়িকভাবে মীমাংসা করে দেন।
এর পরদিন (২৯ জুন) দোকান বন্ধ করে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওত পেতে থাকা একদল হামলাকারী তাঁর পথরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই লাঠিসোঁটা দিয়ে তাঁর ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এতে তাঁর একটি হাত ভেঙে যায় এবং পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা তাঁকে রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য:
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহাদ আলী বলেন, “আমি চিৎকার করছিলাম, অনেকেই এগিয়ে এসেছিল। কিন্তু হামলাকারীদের হাতে লাঠিসোঁটা থাকায় ভয়ে কেউ আমাকে রক্ষা করতে পারেনি। মারতে মারতে আমি অজ্ঞান হয়ে গেলে তারা পালিয়ে যায়।”
হামলায় কারা অংশ নিয়েছে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, “হামলাকারীদের সবাইকে আমি চিনতে পেরেছি। তাদের মধ্যে রয়েছে আমার চাচাতো ভাইয়ের ছেলে পাখি, পাখির স্ত্রী জেসমিন, শ্বশুর ইয়াদ আলী, শাশুড়ি তহমিনা ও শ্যালক সোহাগ।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের জন্য সেনাবাহিনীতে চাকরি করেছি, একাধিকবার শান্তিরক্ষা মিশনেও অংশ নিয়েছি। অবসরের পর শান্তিতে থাকার কথা ছিল, অথচ এখন নিজের জমি নিয়ে হামলার শিকার হলাম। জমির সব বৈধ কাগজপত্র আমার কাছে রয়েছে।”
পুলিশের বক্তব্য:
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার। এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চনন্দ সরকার বলেন, “রাতে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তবে বাদী চিকিৎসাধীন থাকায় এবং উপস্থিত না হতে পারায় মামলা রেকর্ড হতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক মামলা দায়েরের পর আইনগত প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”