ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমার নদীর দুই পাড়ের ছয় গ্রামবাসীর মাঝে ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উপর এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সুমন উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন বাবুর্চির ছেলে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত:
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে হাসামদিয়া গ্রামের দুই কিশোরের সঙ্গে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের সপ্তম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর হাতাহাতি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসাও করা হয়েছিল। তবে গতকাল বিকেলে পৌরসভা এলাকায় সেই পুরনো বিরোধের জেরে পূর্ব হাসামদিয়া গ্রামের দুই কিশোরের সঙ্গে পুনরায় বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। এর পর রেশ ধরে সন্ধ্যায় পূর্ব হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের লোকজন তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
৬ গ্রামের রণক্ষেত্র ও মহাসড়ক অবরোধ:
সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর দুই গ্রামের পক্ষে প্রতিবেশী আরও ৪টি গ্রামের মানুষ যুক্ত হয়। কুমার নদীর উভয় পাড়ের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র— ঢাল, সঁড়কি, টেঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে অন্ধকারে ও বৃষ্টির মধ্যে এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষের সময় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উপর দুই পক্ষ অবস্থান নিলে সড়কের দুই দিকে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
পুলিশের ভূমিকা ও বর্তমান পরিস্থিতি:
সংঘর্ষের শুরু থেকেই ভাঙ্গা থানা পুলিশ উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ ও শান্ত করার চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ সুমনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আস্তে আস্তে নিয়ন্ত্রণে আসে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, “এক যুবকের ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। সংঘর্ষের পর মহাসড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।”