সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানাধীন দৌলতপুর ইউনিয়নের গোপরেখী গ্রামস্থ ১৪৫ নং গোপরেখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বিদ্যালয় সংলগ্ন খেলার মাঠে এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পটভূমি:
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুন গ্রামের লোকজনকে নিয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের লক্ষ্যে বিদ্যালয় অফিস কক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেই আলোচনাটি কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই অনিষ্পন্ন থেকে যায়।
আজ সকালে ওই কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ আতাউর রহমান আতার (৬২) সমর্থক নেতাকর্মী এবং বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ নুরুল ইসলামের (৫০) আওয়ামী লীগ অনুসারী সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা ও পরে হাতাহাতি হয়।
বিরোধের মূল কারণ:
স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোঃ ইব্রাহিমের সরকারি শর্ত মোতাবেক সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম তাকে সভাপতি না করে ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ হারেছ মোল্লার আপন ছোট ভাই মোঃ সাইফুল মোল্লাকে সভাপতি করার জন্য এককভাবে চেষ্টা করছিলেন। উল্লেখ্য, সাইফুল মোল্লা আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পূর্বেও প্রায় ১০ বছর যাবত এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ সকালে প্রধান শিক্ষক জনাব নুরুল ইসলাম বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে পূর্ব পাশের খেলার মাঠে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে ডেকে নেন। তারা ম্যানেজিং কমিটিতে আওয়ামী লীগের লোকজনকে অন্তর্ভুক্ত না করার জন্য জোরালো দাবি জানান। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে বিএনপি সমর্থকদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষকের আওয়ামী লীগ অনুসারী কিছু সমর্থক ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সামান্য হাতাহাতি হয়। এতে প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের পরিহিত পাঞ্জাবির বোতামসহ বাম অংশ ছিঁড়ে যায়।
বর্তমান পরিস্থিতি:
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এনায়েতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়দের দাবি, সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলামকে পুনরায় সভাপতি করে কমিটি দেওয়া হলে এলাকায় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বর্তমানে ঘটনাস্থল পুলিশ প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে বলে জানা গেছে।