লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের ব্র্যাক স্কুলের শিশু শিক্ষার্থী নন্দিনী রানী (৭) হত্যা মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি মমতা রানীকে (৩৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৯ জুন) রাত ৯টার দিকে লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের কালীরপাট এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযান ও গ্রেপ্তার:
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় আসামি মমতা রানী সদর উপজেলার কালীরপাট এলাকায় তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করে আছেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে থানা পুলিশের একটি চৌকস দল সেখানে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। এর আগে একই মামলায় মমতার স্বামী রণজিৎ কুমার বর্মণ ও তাদের ছেলে বিধান চন্দ্র বর্মণকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ ও মামলা:
পুলিশ ও মামলার বিবরণী সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুন ফলিমারী গ্রামের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু নন্দিনী রানী। নিখোঁজের পরদিন ফলিমারী গ্রামেরই একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশুটির বস্তাবন্দী হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই নির্মম ও রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ। পরবর্তীতে নিহত শিশুর বাবা নলনী মোহন বর্মণ বাদী হয়ে স্থানীয় রণজিৎ বর্মণ, তার স্ত্রী মমতা রানী এবং ছেলে বিধান চন্দ্র বর্মণকে আসামি করে আদিতমারী থানায় একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ওসি’র বক্তব্য ও চার্জশিটের প্রস্তুতি:
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, “এই মামলার প্রধান আসামি বিধান চন্দ্র বর্মণ ইতিমধ্যে বিজ্ঞ আদালতে হাজির হয়ে নিজের অপরাধ ও শিশু নন্দিনীকে নির্মমভাবে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এবার তার সহযোগী ও মামলার অন্যতম এজাহারনামীয় আসামি মমতা রানীকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।”
ওসি আরও জানান, ক্লুলেস ও আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে এবং খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিজ্ঞ আদালতে মামলার পূর্ণাঙ্গ ও বস্তুনিষ্ঠ চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হবে।