সারা দেশের ন্যায় সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় আজ রবিবার (২৮ জুন) ২০২৬ তারিখে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ সফল ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিশুদের অপুষ্টিজনিত রোগ প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অন্ধত্বের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার বেলকুচি উপজেলায় ১টি স্থায়ী ও ১৭৬টি অস্থায়ীসহ মোট ১৭৭টি টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৪ হাজার ৮৩৯ জন শিশুকে নীল রঙের (১ লক্ষ আইইউ) এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৪৩ হাজার ৯৩২ জন শিশুকে লাল রঙের (২ লক্ষ আইইউ) ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের চিত্র ও তদারকি:
ক্যাম্পেইনটি শতভাগ সফল করতে মাঠপর্যায়ে ২২ জন প্রথম শ্রেণির তদারককারী এবং ৩৫৪ জন স্বেচ্ছাসেবী নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানোর পাশাপাশি মা ও অভিভাবকদের পুষ্টি বিষয়ক প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করছেন।
কেন্দ্রে দায়িত্বরত প্রথম শ্রেণির তদারককারী মো. কবির হোসেন জানান, সকাল থেকেই অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অভিভাবকেরা বেশ আনন্দের সাথে তাদের সন্তানদের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়াতে কেন্দ্রে নিয়ে আসছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বার্তা:
ক্যাম্পেইনের গুরুত্ব তুলে ধরে স্বাস্থ্য সহকারী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “ভিটামিন ‘এ’ শিশুর দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা, স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণে শিশুদের রাতকানা রোগ ও অন্যান্য অপুষ্টিজনিত জটিলতার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আশরাফুন্নাহার মৌসুমী বলেন, “সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় বেলকুচি উপজেলায় শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। শিশুদের সুস্থ ও সবল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এই ক্যাম্পেইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”