নেত্রকোণা শহরের বারহাট্টা রোডের বায়তুস সালাম জামে মসজিদে স্থানীয় মুসল্লিদের সঙ্গে মতবিনিময় ও জনসচেতনতামূলক সভা করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম। গত ২৬শে জুন (শুক্রবার) জুমার নামাজ আদায় শেষে তিনি এই সভায় অংশ নেন। এ সময় পুলিশ সুপারের পাশাপাশি নেত্রকোণা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আল মামুন সরকার উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূল, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ, গুজব রোধ, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বস্তরের জনসাধারণের ঐকান্তিক সহযোগিতা কামনা করা হয়।
অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি
পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম রাজুর বাজার এলাকার দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রশংসা করে বলেন, বিদ্যমান এই সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতি ভবিষ্যতেও অটুট রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনের শক্ত অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দেন।
মুসল্লিদের উদ্দেশে তিনি বলেন,
“পুলিশ জনগণের বন্ধু। এলাকার যেকোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কিংবা আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সঠিক তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানালে অপরাধ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হয় এবং প্রকৃত অপরাধীকে খুব দ্রুত সময়ের ভেতর আইনের আওতায় আনা যায়।”
আইন নিজের হাতে না নেওয়ার আহ্বান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এসপি বলেন, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে দ্রুত থানায় যোগাযোগ করতে হবে। এছাড়া রাজুর বাজার এলাকার প্রধান সড়ক ও মসজিদসংলগ্ন এলাকায় যানজট এড়াতে যত্রতত্র মোটরসাইকেল বা অন্যান্য যানবাহন পার্কিং না করার আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও তরুণদের বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানো থেকে বিরত রাখতে অভিভাবকদের সচেতনতামূলক ভূমিকা পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ অথবা নেত্রকোণা মডেল থানার ডিউটি অফিসারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার জন্য তিনি সবাইকে অনুরোধ জানান।