ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে সৌদি আরবের ঐতিহাসিক আরাফার ময়দানে হজের খুতবা শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে এই পবিত্র প্রান্তরে হজের খুতবা পাঠ শুরু করেন শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুদাইফি।
আরবি হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুসারে আজ সৌদি আরবে ৯ জিলহজ, যা বিশ্ব মুসলিমের কাছে পবিত্র ‘আরাফা দিবস’ হিসেবে পরিচিত। মক্কা থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক ময়দানে সমবেত হয়েছেন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখ মুসলমান।
লাব্বাইক ধ্বনিতে কম্পিত আরাফাহ:
মঙ্গলবার সকাল থেকেই আরাফার ময়দান ও এর চারপাশের আকাশ-বাতাস হাজিদের আকুল করা কণ্ঠে মুখরিত হয়ে উঠেছে। শ্বেতশুভ্র ইহরামের কাপড়ে শরীর ঢেকে লাখো হাজি একসুরে উচ্চারণ করছেন—‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্দা, ওয়ান্নি’মাতা লাকা ওয়াল্মুল্ক্, লা শারিকা লাকা’ (আমি হাজির হে আল্লাহ, আমি হাজির। তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধুই তোমার, সব সাম্রাজ্য তোমার)।
এর আগে সোমবার দিন ও রাতজুড়ে মিনায় অবস্থানের পর, আজ ফজরের নামাজ আদায় করেই হজযাত্রীরা পরম করুণাময়ের সান্নিধ্য লাভের আশায় পবিত্র আরাফার ময়দানের উদ্দেশে রওনা হন।
বিদায় হজের স্মৃতিধন্য প্রান্তর:
মানব ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ময়দানেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর জীবনের ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সেই অমর স্মৃতি ও নির্দেশনা বুকে ধারণ করে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের এক অভূতপূর্ব মহড়া দেখা যাচ্ছে আজ আরাফায়।
দিনব্যাপী খুতবা শ্রবণ, জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে আদায় এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত কান্নাকাটি, ক্ষমা প্রার্থনা ও বিশেষ দোয়া-মোনাজাতের মধ্য দিয়ে পুণ্যময় এই দিনটি অতিবাহিত করবেন আল্লাহর মেহমানরা। সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফা থেকে রওনা হবেন মুজদালিফার উদ্দেশে।