রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যার দ্রুত বিচারের লক্ষ্যে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির মধ্যেও এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট আদালত খোলা রাখার বিশেষ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই এই চাঞ্চল্যকর বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
আজ সোমবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ঈদের ছুটিতে আদালত খোলার অনন্য উদ্যোগ:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারকাজ দ্রুততম সময়ে এগিয়ে নিতে ঈদের ছুটির দিনগুলোতেও সংশ্লিষ্ট বিশেষ আদালত খোলা রাখার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে শিশু নির্যাতন ও বর্বরতার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি আসলে একটি চরম সামাজিক অবক্ষয়। এর জন্য আমাদের সামাজিক সংস্কার প্রয়োজন। কিছু অপসংস্কৃতি আমাদের সমাজে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। বর্তমানে ধর্ষণের মাত্রা, তীব্রতা ও ধরন আমাদের সাধারণ মানুষের সহ্যসীমার বাইরে চলে গেছে।”
রেকর্ড গতিতে তদন্ত ও বিশেষ পিপি নিয়োগ:
ঘটনার পর অপরাধীদের পার পাওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে আমরা মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। আসামি আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেওয়ার এক দিনের মাথায় তার স্ত্রীকেও এই অপরাধের সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি আদালতের অনুমতি নিয়ে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে ডিএনএ পরীক্ষাও সম্পন্ন করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনার জন্য সরকার একজন বিশেষ পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) নিয়োগ দিয়েছে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ায় আজই আদালতে এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়া হবে। আর চার্জশিট দাখিলের পর আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে পুরো বিচারকাজ শেষ হওয়ার এক জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বক্তব্য:
এদিকে, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট করে বলেন, “তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের মুখোমুখি করতে আমরা ইতিমধ্যেই একাধিকবার আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছি। আমরা চাই, সম্পূর্ণ যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া মেনেই তিনি দেশে ফিরে আসুন এবং দেশের আইনের কাছে বিচারের মুখোমুখি হোন।”