রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার আলোচিত মামলায় আইনি প্রক্রিয়া ও শতভাগ ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে ডিফেন্স আইনজীবী বা ‘স্টেট ডিফেন্স’ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ থেকে জারি করা এক বিশেষ আদেশে এই তথ্য জানানো হয়। কোনো আসামির নিজস্ব আইনজীবী নিযুক্ত করার সামর্থ্য না থাকলে বা আইনি জটিলতা থাকলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে রাষ্ট্র কর্তৃক আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার যে সাংবিধানিক নিয়ম রয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় এই আদেশ জারি করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে চলবে বিচার:
সরকারি আদেশ অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন এই চাঞ্চল্যকর রামিসা হত্যা মামলায় আসামিপক্ষের মামলা পরিচালনার জন্য ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্লাহকে ‘স্টেট ডিফেন্স ল’ইয়ার’ (State Defense Lawyer) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে তিনিই আদালতে আসামিদের পক্ষে আইনি সওয়াল-জবাব করবেন।
পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির একাধিক কঠোর ধারায় দায়ের হওয়া এই মামলাটির বিচার কার্যক্রম বর্তমানে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে দ্রুততার সাথে চলবে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর মিল্লাত ক্যাম্প এলাকায় শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে মামলা করলে পুলিশ সোহেল ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে। ইতিমধ্যেই প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে এবং সিআইডির ডিএনএ রিপোর্টও তদন্ত কর্মকর্তার হাতে পৌঁছেছে। রাষ্ট্রপক্ষের আশা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ট্রাইব্যুনালে বিচারের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।