কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ধানবোঝাই ট্রাক উল্টে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেওয়ার ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের মা ও তাঁর দুই সন্তান রয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে রৌমারী-ঢাকা মহাসড়কের শিবেরডাঙ্গী এলাকায় দারুল আহকাম মাদ্রাসার কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, উপজেলার চরলাকান্দা গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী লিপি খাতুন এবং তাঁর দুই সন্তান রিশাদ (১২) ও তুবা (৮)। এ ছাড়া কর্তিমারী গ্রামের বাদলের স্ত্রী শরীফা বেগম (৪৬) ও অটোরিকশাচালক নিহত হয়েছেন। শরীফা বেগম সম্পর্কে লিপি খাতুনের বড় বোন। তবে নিহত অটোরিকশাচালকের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
দুর্ঘটনায় শরীফা বেগমের মেয়ে বৃষ্টি খাতুন (২২) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুরে রৌমারী থেকে ঢাকার আশুগঞ্জের উদ্দেশে ধানবোঝাই একটি ট্রাক যাচ্ছিল। এ সময় শেরপুর থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে ট্রাকটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রাকটি উল্টে অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। ট্রাকের নিচে ও ধানের স্তূপের চাপে ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর রৌমারী-ঢাকা মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। খবর পেয়ে রৌমারী-চর রাজিবপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ও দুই থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
উদ্ধারকাজের পর সড়কে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হলেও উল্টে থাকা ট্রাকের কারণে বড় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছিল।
রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের কাউকেই জীবিত পাওয়া যায়নি। মরদেহ হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা করে তাঁদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
রৌমারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রাসেল কবির দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। পলাতক ট্রাকচালককে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।